আপাতত হকার উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের, তবে স্বস্তি নয়

45

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর হকার উচ্ছেদ। প্রত্যেকটি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। রেলের জমিতে থাকা দীর্ঘদিনের স্টল বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলাতেই এবার বড় নির্দেশ আদালতের। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, আপতত চলতি মাসে আর উচ্ছেদ করা যাবে না হকারদের।
২৫টি মামলার সামগ্রিক শুনানিতে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, আপাতত ৩০জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ করা যাবে না কোনো হকারদের। যাদবপুর, হাওড়া, কোন্নগর, ডানকুনি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা। গত সপ্তাহেই হকারদের স্টলে ভাঙচুর করার সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই হাওড়া, শিয়ালদা, দমদম থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় রেলের জায়গায় থাকা হকারদের উচ্ছেদ শুরু হয়৷ যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত উত্তেজনা হয়। এর বিরুদ্ধে বামেরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।‌ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন। কবিতাও লিখেছেন। ‌আপাতত উচ্ছেদের বিষয় কিছুটা স্বস্তি পেলেন হকাররা।
হাইকোর্টে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল, ‘যেভাবে হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে তাঁদের মৌলিক অধিকার খর্ব হচ্ছে। ‌কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র তাঁদের শত্রু হিসেবে আচরণ করতে পারে না। অথচ এখানে হঠাৎ বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি রাতে কোনও না কোনও জায়গায় লোকজন রাত পাহারা দিচ্ছেন। তাতেও বুলডোজার হামলা থামানো যাচ্ছে না।’
বিকাশ ভট্টাচার্য সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন , ‘যখন কেউ রেলের জমিতে বসে পড়ছে, তখন তাঁকে বাধা না দিলে দুই-তিন দশক পর তাঁকে উচ্ছেদ করা যায় না, এটা সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেই আছে।’
সব সওয়াল-জবাব শেষে আপাতত এই মাসের জন্য উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।‌ জমির অবস্থান ও রেকর্ড দেখা ছাড়াও আগামী দিনে প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে কেন নোটিস জারি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেবে রেল। এর মধ্যে যাঁদের কোনও সময়ে রেল বসার অনুমতি দিয়েছিল এমন ক্ষেত্রে আগামী দিনে রেল তাদের অবস্থান জানাবে রিপোর্ট দিয়ে। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে উচ্ছেদ করার আগে বিকল্প জায়গার বিষয়টাও বিবেচনা করে আদালতে জানাতে হবে রেলকে।