শুরু হচ্ছে অম্বুবাচি, জানুন অম্বুবাচির বিধিনিষেধ ও নিয়মাবলী

39

নিউজ ডেস্ক : সব পথ এসে মিশেছে নীলাচল পাহাড়ে। সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে অম্বুবাচি। সেই উপলক্ষে গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে লক্ষ লোকের মেলা। ভারত তো বটেই ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, আমেরিকা, হল্যান্ড, ইংল্যান্ড থেকেও সন্ন্যাসী আর পর্যটকের ভিড়ে এখন গমগমে অম্বুবাচির কামাখ্যা।

অম্বুবাচির সময়সূচি :

২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে প্রবৃত্তি

২৬ জুন রাত ১০:৫৭ মিনিটে নিবৃত্তি

কামাখ্যার সবচেয়ে বড় উৎসব অম্বুবাচি উপলক্ষে এই চারদিনে দশ লক্ষাধিকের ভিড় জমবে নীলাচল পাহাড়ে। ইতিমধ্যে পুজো করে আনুষ্ঠানিকভাবে কামাখ্যায় প্রবেশ করেছেন বিভিন্ন আখড়ার সন্ন্যাসীরা। নাগা সন্ন্যাসীদের আখড়ার চেনা গর্জন আর ভুবনেশ্বরী মন্দিরের সামনে বাউল আখড়ায় বাংলার সুর মিলেমিশে অম্বুবাচির থিম গড়ে দিয়েছে। রাস্তা থেকে কামাখ্যা, ভৈরবী, তারাদেবী, বগলা ও ভুবনেশ্বরী পর্যন্ত বিভিন্ন আকার-প্রকার-রঙের দাড়ির মেলা। কোথাও বিশ ফুট দাড়ি দেখতে খুচরো পয়সার পাহাড় জমছে। ভক্তদের মোবাইলে রকমারি সাধু ফ্রেমবন্দি হয়ে চলেছেন দিনভর।

কামাখ্যা স্টেশন, পুরনো পাণ্ডু স্টেশন, সোনারাম ফিল্ডে ভক্তদের জন্য খোলা হয়েছে শিবির। প্রতিটি শিবিরে আছেন একজন করে অতিরিক্ত জেলাশাসক ও বিভিন্ন দফতরের কর্তা। বিভিন্ন স্থানে খাবার বিতরণের জন্য খোলা হয়েছে ভাণ্ডারা। সব শিবিরে আছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দল।

অম্বুবাচির মাহাত্ম্য:

পুরাণ অনুসারে, দেবী সতীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে ভারত ও তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সব জায়গায় গড়ে উঠেছে এক একটি সতীপীঠ। তার মধ্যে অসমের গুয়াহাটিতে নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যাতে পড়েছিল দেবীর যোনি। তাই এই মন্দির যোনিপীঠ নামেও খ্যাত।

অম্বুবাচি শব্দের অর্থ জলবৃদ্ধি। মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে সূর্য গমন করতে শুরু হয় অম্বুবাচি। তিন দিন ধরে চলে এই দশা। এই সময় মাতা ধরিত্রীর ঋতুমতী দশা চলে। কামাখ্যায় এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়। এই সময় পৃথিবী ‘অশুচি’ দশায় থাকে বলে মনে করা হয়।

অম্বুবাচির পালনের নিয়মাবলি:

অম্বুবাচি পালনের নিয়ম অনেক। যে কেউ চাইলে এটি পালন করতে পারেন না। সাধারণত বিধবা মহিলারা অম্বুবাচী পালন করতে পারেন। এ ছাড়া তন্ত্রসাধক, ব্রহ্মচারী, সাধু-সন্ন্যাসীরা এই পবিত্র তিথি পালন করে থাকেন। অর্থাৎ, যে কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষেরা এই তিথি পালন করতে পারবেন। কিন্তু সধবাদের জন্য এই তিথি নয়। তাঁরা চাইলেও এটি পালন করতে পারেন না।
অম্বুবাচি যাঁরা পালন করেন, তাঁরা এই কয়দিন আগুনে রান্না করা কোনও খাবার খেতে পারবেন না। ‘অশুচি’ ধরিত্রীর উপর আগুন জ্বালিয়ে খাবার রান্না করে এই সময় তাঁরা খান না। এই সময় তাঁরা আগুন ছুঁতে পারবেন না বলে মনে করা হয়। এই বিশেষ তিন দিন ব্যবহৃত জামাকাপড়, বিছানার চাদর প্রভৃতি শুদ্ধ বস্ত্রের সঙ্গে ছোঁয়ানো যাবে না।

অম্বুবাচি চলাকালীন তেল-সাবান-শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না। তিন দিন পর সাবান-শ্যাম্পু মেখে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরে ব্রত ভাঙতে হবে। এই বিশেষ তিন দিন বাড়ির সব দেবীদের মুখ লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। কোনও মতে তাঁদের মুখ দেখা যাবে না। অম্বুবাচি ছেড়ে গেলে সেই লাল কাপড় তুলে ফেলে দেবীদেরও স্নান করাতে হবে। তাঁদের পরনের বস্ত্র বদলে ফেলতে হবে।
অম্বুবাচি চলাকালীন সবরকম শুভ কাজ অর্থাৎ বিয়ে, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন, গৃহপ্রবেশের কাজ করা ঠিক নয় বলে কথিত।