সেমিকন্ডাক্টরে গুরুত্ব ভারত-জাপান চুক্তিতে

30

নিউজ ডেস্ক: দিল্লির হারদরাবাদ হাউসে ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠকে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং সাপ্লাই চেন শক্তিশালী করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোদী-তাকাইচি সহ বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পাশে নিয়ে মোদি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভারত-জাপানের ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ’ নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে।

সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে যৌথ রোডম্যাপ
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে মোদী জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সামনে রেখে ভারত ও জাপান একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করেছে। এই রোডম্যাপে সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং সাপ্লাই চেন আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, লক্ষ্য ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন
গত এক বছরে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রায় ১২০টি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে ভারতে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। আগামী এক দশকে ভারতের লক্ষ্য ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন জাপানি বিনিয়োগ।

প্রতিরক্ষায় প্রথম যৌথ কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প
বৈঠকের অন্যতম বড় ঘোষণা হল ভারত ও জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি হবে, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের লক্ষ্যে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

সেমিকন্ডাক্টর ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে যৌথ রোডম্যাপ
অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেন শক্তিশালী করার জন্য একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করেছে ভারত ও জাপান।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে নতুন উদ্যোগ
শীর্ষ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া-জাপান বায়োগ্যাস ইনিশিয়েটিভ’ (India-Japan Biogas Initiative)-এরও ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ভারতে একাধিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে, পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে সানায়ে তাকাইচিকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। তিন দিনের সরকারি সফরে তিনি ১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ভারতে রয়েছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ভারত-জাপান সম্পর্ককে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আরও গভীর করা।

উত্তর-পূর্ব ভারত ও তার বাইরে কৌশলগত সংযোগ
ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক দুর্বলতা মোকাবিলার লক্ষ্যে ভারত ও জাপান ২০১৭ সালে অ্যাক্ট ইস্ট ফোরাম (এএফ) প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই কৌশলগত প্ল্যাটফর্মটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে চালিত করার পাশাপাশি এই অঞ্চলের অভ্যন্তরে এবং সেখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পরিকাঠামো সক্রিয়ভাবে নির্মাণ করছে।


জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি বা সংক্ষেপে জাইকা অসম, মেঘালয় এবং মিজোরাম জুড়ে বিশাল সড়ক নেটওয়ার্ক সংযোগ প্রকল্পে অনেক অর্থ দিয়েছে। এই কাজের মধ্যেরয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর ধুবড়ি-ফুলবাড়ি সেতু নির্মাণ, যা হবে ভারতের অন্যতম দীর্ঘতম নদী সেতু।


পরবর্তী প্রজন্মের গতিশীলতা ও মানবসম্পদ বিনিময়: ভারত-জাপান মানবসম্পদ বিনিময় কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য উভয় দিকে পাঁচ লক্ষেরও বেশি কর্মী বিনিময় করা। এর মধ্যে জাপানের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার জন্য স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (SSW) এবং টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম (TITP) ভিসা কাঠামোর অধীনে ৫০,০০০ উচ্চ দক্ষ ভারতীয়কে সরাসরি জাপানে পাঠানোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।