রামমন্দির পরিচালনের ভার হাতে নিল আরএসএস

34

নিউজ ডেস্ক: রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। চম্পতের জায়গায় এলেন বজরং বাগড়া। রামমন্দির পরিচালন সমিতি থেকে ইস্তফা দিলেও চম্পত রাই এখনও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।
পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বজরং বাগড়া রাজস্থানের সিকর জেলার বাসিন্দা। চার দশক ধরেই তিনি সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ। আগে সরকারি আধিকারিক ছিলেন বাগড়া। কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রকের অধীনে নবরত্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানি লিমিটেড (নালকো)-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং কর্পোরেট প্রশাসনে দক্ষ এই আধিকারিক। নালকো থেকে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার পরে বাগড়া সক্রিয়ভাবে ভিএইচপি-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। প্রণামী চুরির আবহে রামমন্দির পরিচালনায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগের জেরে ট্রাস্ট এবার প্রশাসন সামলানোর গুরুদায়িত্ব তুলে দিল বাগড়ার কাঁধে। অভিযোগ, রামমন্দিরের ভিতরে রামদরবারে বসানোর জন্য দান বাবদ মেলা রুপোর তৈরি কাকভূশণ্ডির মূর্তি এবং সোনায় মোড়া রামচরিতমানসের সন্ধান মিলছে না।
রামমন্দিরে প্রণামী চুরির অভিযোগে আট জন অভিযুক্তের গ্রেফতারির পরেই শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন চম্পত রাই। সেই সঙ্গে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্যপদ ছেড়েছিলেন অনিল মিশ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাস্টের ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জনই মোদী সরকারের মনোনীত। ট্রাস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি আইএএস অফিসার প্রশান্ত লোখণ্ডে বর্তমানে সিবিএসই-র চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব। মোট ১৪ জনের মধ্যে নয়জন সরাসরি সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নৃপেন্দ্র মিশ্র। তিনি রামমন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান ছিলেন।
এদিকে, রামমন্দিরে প্রণামী ‘চুরি’ বিতর্কের মাঝে খরচ সংক্রান্ত কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে মন্দির ট্রাস্ট। ট্রাস্টের দাবি, ৩২৬৪ কোটি টাকা প্রণামী জমা পড়েছিল। মন্দির নির্মাণ, উন্নয়ন, ধর্মীয় এবং আরও কিছু পরিকাঠামো খাতে খরচ হয়েছে ২৩৭০ কোটি টাকা। পুণ্যার্থীদের দানের ৩৯১ কোটি টাকা মন্দির পরিচালনা খাতে ব্যয় হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৭৬১ কোটি টাকার হিসাব দিয়েছে ট্রাস্ট।
প্রণামী হিসাবে যে রুপো সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা মন্দিরের নির্মাণ, সাজসজ্জা এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, জানিয়েছে ট্রাস্ট। মন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা নগদ টাকা, সোনা, রুপো, বিদেশি মুদ্রা এবং কিউআর কোড লাগানো প্রণামী বাক্স উদ্ধার করেছেন তল্লাশি অভিযানে।