পৃথা দাশগুপ্ত;কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । প্রথমে তিনি বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান এবং সেখানে উপস্থিত নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন । একই সঙ্গে, গণপিটুনিতে যে যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তাঁর পরিবারের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন । তদন্তের গতিপ্রকৃতি কি রকম তা খতিয়ে দেখতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর। তাঁর সঙ্গে এসপি অফিসে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তাও।
মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই সকাল থেকেই চরম রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যায় বারুইপুরে। অগ্নিমিত্রা পাল এবং লকেট চট্টোপাধ্যায় নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়ক শিউলি সাহা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এলাকায় যান। একই সঙ্গে, এনডিএ জোটকে সমর্থনকারী তৃণমূলের দুই বিদ্রোহী সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। উল্লেখ্য, বারুইপুরের যে অঞ্চলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি সাংসদ সায়নী ঘোষের সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত। তবে সায়নী ঘোষকে দেখে চোর স্লোগান ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেও স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষদের এলাকায় দেখামাত্রই তাঁদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হলে এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি হাতছাড়া হওয়ার আগেই পুলিশ প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় হয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বারুইপুরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এস পি অফিসের ভিতরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঠিক কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে, তা এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও একটি জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার বারুইপুরের একটি স্থানীয় পুকুর থেকে নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতেরা হলেন, আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল, দিবারক সর্দার।