দেহ আনতে যাবেন না প্রভাসের মা -” ও যা করেছে তার ফল পেয়েছে” – জানালেন‌ সন্ধ্যা মন্ডল

35

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:মা দেখতে যাবেন না ছেলের নিথর দেহ। কারণ ছেলে অন্যায় করেছে। যেমন কর্ম তেমনি ফল। নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে এনকাউন্টার হওয়া প্রভাসের মায়ের চোখে জল, কিন্তু অন্যায়ের শাস্তিতে তার কোন দুঃখ নেই।

ভোরেই পুলিশ এসে আই কার্ড চেয়ে ছেলের মৃত্যুর খবর দিয়েছে প্রভাস মন্ডলের মা সন্ধ্যা মন্ডলকে। পাশাপাশি পুলিশ জিজ্ঞেস করেছেন তাঁকে যে ছেলেকে দেখতে যাবেন কি না? কিন্তু এক কথায় তিনি জানিয়েছেন, ছেলের দেহ দেখবেন না, তাঁর দেহ নেবেন‌ ও‌ না। পুলিশের যা মনে হয় দেহ নিয়ে করতে পারে। তাতে তাঁর কোনো অসুবিধা নেই।‌

মঙ্গলবার রাতে বারুইপুর ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে প্রভাস মন্ডলের। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই সময় পুলিশকর্মীর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস। এক রাউন্ড গুলি চালান বলেও পুলিশের দাবি। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। তাতেই গুরুতর আহত হন প্রভাস। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আজ সকালে এই খবর পৌঁছতে প্রভাস মন্ডলের বাড়িতে যান পুলিশ আধিকারিকরা। সন্ধ্যা মন্ডল বলেন, ‘‘পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করে, আপনার ছেলের নাম প্রভাস মণ্ডল? আমি বললাম হ্যাঁ। তারপর বলল, আপনার ছেলে মারা গেছে। আপনি দেখতে চান?’’ প্রভাসের মা জানান ‘‘আমি ওর দেহ আনতে যাব না। ওকে দেখতে চাই না। কেউ ওর দেহ আনতে যাবে না।’’

রবিবার প্রভাস মন্ডলকে বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশ প্রথম গ্রেফতার করে।‌ তাঁর সূত্র ধরে পরে আরও তিন জন আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সিসিটিভিতেও নাবালিকার সঙ্গে প্রভাসকে দেখা গিয়েছিল।

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে স্বাভাবিকভাবেই মায়ের বুক কেঁপে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু সন্ধ্যা মন্ডল জানান” আমার কথা শুনতো না, খালি নেশা করত, ও যা করেছে তার ফল পেয়েছে, ঠিক হয়েছে” ।‌

শনিবার বারুইপুরের সূর্যপূর এলাকায় এক নাবালিকা ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। রবিবার দেহ উদ্ধার হয় এলাকারই একটি পুকুর থেকে।‌ তার পর থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর। এই ঘটনায় প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দার এবং কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রথমে প্রভাসকে গ্রেফতার করা হয়। প্রভাসই দেখিয়ে দেন, নাবালিকার দেহ কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রভাস, আনন্দ এবং দিবাকরকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার হন কবীর।