পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু বারুইপুর ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলের

75

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:বারুইপুর কাণ্ডে নয়া মোড়। পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু বারুইপুর ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলের। ‌ গতকাল রাত ১২.৪৫ নাগাদ ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালায় সে। এর পরই পুলিশও গুলি চালাতে বাধ্য হয়। প্রভাসকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। ‌ পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। সিসিটিভি ফুটেছে এই প্রভাসকেই দেখা গিয়েছিল নির্যাতিতাকে ফলো করতে। স্থানীয় দোকানের সিসিটিভি দেখে সর্বপ্রথম এই অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আরো দুজনকে গ্রেফতার হয়। রাজ্যে এই প্রথম ধর্ষণ-খুন মামলায় এনকাউন্টার হল।

পুলিশ সূত্রে খবর, যে কোন অপরাধের পুনর্নির্মাণ করতে হয়। অপরাধের পুর্ননির্মাণের জন্য পুলিশ মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে সূর্যপূরে যায়। রাত ১২ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালায়। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে, অভিযুক্তকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগে অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে হঠাৎ এক রাউন্ড গুলি চালায় । গুলি চালিয়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ
গুলি চালায়‌ । পাশাপাশি অভিযুক্ত তে তে পাকড়াও করার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হন তাঁরা। সেই গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্তের।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস‌ও দেন।

একইসঙ্গে নাবালিকার খুন এবং ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চতুর্থ অভিযুক্ত, যে এতদিন পলাতক ছিল, তাঁকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার থেকে নিখোঁজ নাবালিকার বস্তা বন্দি দেহ রবিবার পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডল স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে রেল লাইনের পাশে পুকুর থেকে নির্যাতিতার মৃতদেহ উদ্ধার করিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।