‘তাজ হোটেলে বোমা রেখেছে দাউদ’, আবার একটা ২৬/১১! মুম্বাই পুলিশে হুলস্থুল

28

নিউজ ডেস্ক: তাজ হোটেল ফের বোমা হামলা! ফোন পেয়েই মুম্বাই পুলিশের থরহরি কম্প অবস্থা। তবে কি আরও একবার ২০০৮ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরবে? কার্যত হুলস্থুল পড়ে যায়। বিলাসবহুল তাজ হোটেলে বোমা রাখা হয়েছে বলে একটি ফোন কল যায় মুম্বাই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে। রাত তখন ১২ টা পার হয়েছে সেই সময় নবি মুম্বাই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে এক ব্যক্তি ফোন করে। দাবি করা হয়, ‘দাউদ তাজ হোটেলে বোমা রেখেছে।’ খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুম্বাই পুলিশকে সতর্ক করা হয় এবং গোটা এলাকায় জোরদার তল্লাশি চলে। খবর পেয়ে কোলাবা পুলিশ, ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং বোমা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ দল (BDDS) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তাজ হোটেলে তন্ন-তন্ন করে চলে তল্লাশি। হোটেলের মূল লবি, সুইমিং পুল, রেস্তোরাঁ, পার্কিং এলাকা এবং অন্যান্য স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।
দীর্ঘ তল্লাশির পর পুলিশ জানায়, হোটেলে কোনো বোমা বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া বোমা-হুমকি।
পুলিশের টেকনিক্যাল টিম তদন্ত করে জানতে পারে, এই হুমকি ফোনটি নভি মুম্বাইয়ের তুর্ভে এলাকা থেকে করা হয়েছিল। ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেও তাজ হোটেলে একই রকম একটি হুমকি ফোন এসেছিল। তখনও হোটেলের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে সেবারেও তল্লাশিতে কিছুই পাওয়া যায়নি এবং কোনও সন্দেহভাজনকেও ধরা যায়নি।
প্রসঙ্গত, মুম্বাইয়ের কোলাবায় অবস্থিত এই তাজ হোটেলটি ২০০৮ সালের ২৬/১১ জঙ্গি হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। সেই ভয়াবহ হামলায় ১৬৬ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। তাই এই নতুন বোমা-হুমকির ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
তাজ হোটেল মুম্বই শহরের শুধু একটি হোটেল নয়, এটি শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক। সব মিলিয়ে তাজ হোটেল ও আশেপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।