নিউজ ডেস্কঃ এভারেস্ট জয়ের পর ঘরে ফিরলেন রূপামণি গড়। শুক্রবার গুয়াহাটিতে ফিরলে বিপুল সবর্ধনা জানানো হয় রূপামণিকে। মে মাসে অসমের প্রথম মহিলা পর্বতারোহী হিসেবে এভারেস্টের শিখরে পৌঁছে নতুন নজির গড়েন লখিমপুরের অত্যন্ত সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নেওয়া রূপামণি।
স্বপ্নের কোনও সীমা নেই। এভারেস্টের শিখরে তাই অসম কন্যা। যেখানে প্রতিটা পদক্ষেপ মানেই একেকটা সংগ্রাম। অক্সিজেনের অভাব, হিমশীতল হাওয়া। প্রতি মুহূর্তে হিমস্খলনের আশঙ্কা, মৃত্যুভয়। এই সবকিছু যাবতীয় প্রতিকূলতা টপকে ২৯ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছে যান রূপামণি।
যেন স্বপ্নকে বাস্তবে বদলে দেওয়া। অসম্ভবকে সম্ভব করে তুললেন অসমের পর্বতারোহী রূপামণি গড়। এভারেস্টের চূড়ায় ত্রিরঙা উড়িয়ে রূপামণি প্রমাণ করলেন স্বপ্নের কোনও সীমা থাকে না। অসমের লখিমপুর জেলার লীলাবাড়ির নগাঁও পথার গ্রামের রূপামণি পৌঁছে গেলেন এভারেস্টের শিখরে।
২০২৬ এর ২১ মে ছিল সেই ঐতিহাসিক দিন যা অসমের ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লিখা থাকবে। কারণ, ওইদিনই অসমের প্রথম মহিলা পর্বতারোহী হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে যান রূপামণি। অত্যন্ত সাধারণ একটি কৃষক পরিবারে জন্ম রূপামণির।
পিতা জয় সিং গড় একজন চাষি এবং মা কমলবতী গড় অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা। কিন্তু সীমিত আর্থিক অবস্থার মধ্যে থেকেও নিজের স্বপ্নকে ছুঁড়ে ফেলে দেননি রূপামণি। সযত্নে লালন করেছেন। আর্টসে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর ২০২০ সালে ITBP-তে যোগ দেন রূপামণি।
ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশে থাকাকালীনই পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন রূপামণি। শিখরে পৌঁছানোর আগে প্রতিটা শিবিরেই অসংখ্যা বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করতে হয়েছে তাঁকে। ২৯ হাজার ফুট পর্যন্ত পৌঁছাতে কোথায়, কীভাবে ছিলেন রূপাপণি, কী খেয়েছিলেন, নিজেই জানালেন রূপামণি।

১১ জনের দলের নেতৃত্বে ছিলেন অসমেরই আরেক দক্ষ পর্বতারোহী ডেপুটি কমান্ডেন্ট ভনিতা তিমুংপি। এভারেস্টের ডেথ জোন হিসেবে পরিচিত ৮০০০ মিটার ওপরের এলাকাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেখানে অক্সিজেন একেবারেই কমে আসে। ছোটখাটো একটা ভুলই জীবন কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ সামলে এগিয়ে যান রূপামণি। তাঁর প্রতিটা পদক্ষেপ ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। প্রতিটা মুহূর্তই ছিল স্বপ্নপূরণের একেকটি অধ্যায়। শিখরে পৌঁছানোর প্রাক্কালে কীভাবে হিমস্খলনের মুখোমুখি হয়েছিলেন রূপমণি, শিহরণকারী সেই ঘটনার কথাও বললেন।
এভারেস্ট জয়ের পর শুক্রবারই প্রথম অসমে ফেরেন রূপামণি। গুয়াহাটি রেল স্টেশনে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয় তাঁকে। আসুর তরফে শহিদ ভবনে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে রূপামণি, ভনিতা ও অরুণাচল প্রদেশের এভারেস্ট জয়ী পর্বতারোহী লবসাং সোটেনকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
এভারেস্ট জয় মানে শুধু পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে উঠাই নয়, এটা হচ্ছে নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। রূপামণি গড়ের এই যাত্রা এটা প্রমাণ করল যে, স্বপ্ন বড় হলে কোনও বাধাই আটকাতে পারে না।
এভারেস্টের শৃঙ্গে পতপত করে উড়ল ত্রিরঙা, গৌরবে উজ্জ্বল হয়ে উঠল অসমের নাম। এই প্রজন্মের কাছে রূপামণি শুধু এক পর্বতারোহী নন, সাহস, অধ্যবসায় ও অসমিয়া মহিলার অদম্য শক্তির এক জীবন্ত প্রতীক।