স্টিল ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা শুভেন্দুর

36

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:আজ বাঁকুড়ার মেজিয়ায় ইস্পাত কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ এবং ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। বাংলায় বিনিয়োগের জন্য স্টিল কোম্পানিকে ধন্যবাদও দেন তিনি।‌ শিল্পায়ন নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিতেও ছাড়লেন না বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে একদিকে তিনি আমন্ত্রণ জানান, অন্যদিকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনার হাতে অনেক সময় আছে। প্ল্যান্টের ভিতর এসে দেখে যাবেন। এতদিন কথায় কথায় বিশেষ করে মাড়োয়াড়ি, গুজরাতিদের বহিরাগত বলতেন। বলতেন উত্তর প্রদেশ করতে দেব না। আমি অভিভূত, প্ল্যান্টে মন্দির তো আছেই, নন্দী মহারাজ তো আছেই, গো শালা তো আছেই, সঙ্গে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের মূর্তিও রয়েছে। আপনি এসে দেখে যাবেন। সরকারি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এবার বিজেপি সরকার না এলে শ্যাম স্টিল ওড়িশায় চলে যেত। বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।”

শুভেন্দু অধিকারী জানান, ” ৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছিল। এবার এল ১৫ হাজার কোটি টাকা। ধুলাগড়ে আমুল কারখানায় ৭০০ কোটির বিনিয়োগ হবে। দুর্গাপুরে একটি ৪ হাজার কোটি বিনিয়োগের সম্ভাবনা আছে। আরো অনেক বড় বড় শিল্পের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তাজপুরে সি পোর্ট হবে না। সেখানে সরকারি জমি নেই।”

পাশাপাশি তিনি জানান দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করতে আগ্রহী আদানি গ্রুপ। নিউটাউনে আদানি গ্রুপ ২ হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরি করবে বলেছে। গোয়েঙ্কারা ব্যাটারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চান।

এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কারখানায় তালা বন্ধ করলেই হাজতবাস হবে, কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। এজন্য গুন্ডা দমন আইন আনা হয়েছে। কারখানার গেটে তালা লাগালে গ্রেফতার হবে। কারখানা ভেঙে দিলে তিনগুণ আদায় করব। কারখানায় ভাঙচুর করলেই অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব।”

শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। “৩৪ বছর বামেদের আমলে গুলি করে জমি নিয়েছে। তৃণমূল গত ১৫ বছরে বলেছে আমরা জমি দিতে পারব না, শিল্পপতিরা নিজেরা জমি কিনে নিক। আমরা জমি কিনে শিল্পপতিদের দেব। রাজ্য সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। পঞ্চায়েত পুরসভায় অনুমতি নিতে হলে আগে শুনতে হত আমাদের একটু দেখুন। ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করলে কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভায় আপনাদের যেতে হবে না এবং প্রথম ২ বছর জল, বিদ্যুৎ সব দেব। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে কেউ আসবে না। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। এই সরকার পরিকাঠামোর জন্য এয়ারপোর্ট, রেল, সি-পোর্ট সব করে দেবে।”