ওন্দা সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, অভিযোগ পেয়েই হাসপাতালে বিধায়ক অমরনাথ শাখা

26

অতনু রায়,বাঁকুড়া : কিছুদিন আগেই এক বাবা তাঁর শিশুপুত্রকে সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যার সম্মুখীন হন বলে সমাজমাধ্যমে সোচ্চার হন। ওন্দা থানার দামোদরবাটি গ্রামের সন্দীপ চৌধুরীর ছেলে হঠাৎ পেটে ব্যথা নিয়ে অসুস্থ হয়ে যায় নিজের স্কুলেই। খবর পেয়ে সন্দীপবাবু তড়িঘড়ি পৌঁছন স্কুলে, এরপরই ওন্দা সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে বছর ছয়েকের শিশুটিকে নিয়ে আসেন।

সন্দীপবাবু অভিযোগ করেন, হাসপাতালে পেটের যন্ত্রণায় যখন ছটফট করছে শিশুটি। তিনি ইমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত নার্সরা বলেন টিকিট কাটিয়ে আউটডোরে দেখাতে হবে। সন্দীপবাবু তখন নার্সদের অনুরোধ করেন তাঁকে ইমারজেন্সি বিভাগে যাতে দেখা হয়। আউটডোরে গিয়ে দেখেন চিকিৎসক ততক্ষণে উঠে গেছেন।

সন্দীপবাবু জানান, যদিও পরে ইমারজেন্সি বিভাগে অনেক অনুরোধের পর চিকিৎসক ওষুধ লেখেন। তারপরও তাঁকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রথমে দাবি করা হয় এই প্রেসক্রিপশন আজকের নয়, পরে মানলেও, সেখানে ওষুধ নেই, বলেন কর্তব্যরত ফার্মাসিস্টরা। অভিযোগ শিশুটির বাবার। এরপরই তিনি পুরো ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে জানান।
বিষয়টি জানতে পেরেই তৎপর হন এলাকার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা। তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে প্রথমে আশ্বাস দেন বিষয়টি দেখবেন। শনিবার সকালে চলে যান হাসপাতালে। সেখানে রীতিমতো দাবায়ের ভূমিকায় দেখা যায় বিধায়ক অমরনাথ শাখাকে।


তিনি ওন্দা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপারকে বলেন. আপনাদের হাসপাতালে চিকিৎসক থাকছে না, আমি হাসপাতালের সমস্ত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি, এরপরে কিন্তু মানুষের মনে জনরোষ তৈরি হচ্ছে, পরে কিছু হলে আমাকে বলতে পারবেন না। এসব ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করুন।

যদিও এলাকার সুপরিচিত ও দয়ালু চিকিৎসক হিসাবে পরিচিত তথা ওন্দা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার সৌমিত্র চক্রবর্তী বিধায়ককে জানান. ” আমাদের চিকিৎসক সেদিন ছিলেন, ওষুধও লিখে দেওয়া হয়েছিল, তবে আর যাতে কোনও দিন কোন সমস্যা না হয় তা তিনি দেখবেন।”
এলাকার বিধায়ক অমরনাথ শাখাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন শিশুর বাবা সন্দীপ চৌধুরী। সমাজমাধ্যমেও বিধায়কের তৎপরতাকে কুর্নিশ জানিয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।