নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি অসমে। বৃহস্পতিবার চরাইদেও এবং শিবসাগর জেলায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বন্যার জেরে। এনিয়ে অসমে বন্যা পরিস্থিতিতে মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৫০। অন্তত ৭.২১ লক্ষ বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত। অসমের ১১ জেলায় বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
অসমের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবসাগরে দুজন ও চরাইদেও জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৭ রাজস্ব চক্রের ৮৮৩ গ্রাম জলের তলায়, ক্ষতিগ্রস্ত ৭.২১ লক্ষ বাসিন্দা। গোলাঘাট, হোজাই, কামরূপ, চরাইদেও, যোরহাট, ডিব্রুগড়, শিবসাগর, নগাঁও, কামরূপ (মেট্রো), কার্বি আংলং এবং তিনসুকিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুধু জল আর জল।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলা। ৩.৭৫ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, এরপরই রয়েছে চরাইদেও, ১.৮৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং যোরহাটে ১.১৫ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত। দশটি জেলায় বন্যাক্রান্ত ৬.৪২ লক্ষ বাসিন্দা।
১০৩ আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে রয়েছেন ২৪,১২৪ ঘরহারা মানুষ, এর পাশাপাশি ২৫৫ ত্রাণ বণ্টন কেন্দ্র থেকে বানভাসিদের খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। বন্যার জল থইথই করছে ২৫,৩৭৫ হেক্টর কৃষিজমিতে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের।
অসমের বিভিন্ন নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপরে। ডিব্রগড়ের খোয়াংয়ের বুড়িদিহিং, শিবসাগরের কিখোর, শিবসাগরের নাংলামুরাঘাটের দিসাং, গোলাঘাটের নুমলিগড়ের ধনসিড়ি এবং বরাক উপত্যকার শ্রীভূমি জেলার কুশিয়ারা নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপরে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গোলাঘাটে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, এখনও ৭-৮০ মানুষ নিখোঁজ। নাগাল্যান্ডে মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জল ঢুকে উজান অসমের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এইসঙ্গে হিমন্ত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বন্যায় দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণের জন্য সব ধরনের সহায়তা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় দল আসবে অসমের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে।
Next Post