নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে সংসদ চলো অভিযানে পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশ, সিআরপিএফ এবং তারই অধীনস্থ র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের বিরুদ্ধে। এই আবহে বাহিনীকে বার্তা দিয়েছেন সিআরপিএফ ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ। বাহিনীর প্রতি তাঁর বার্তা, পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ভীকভাবে কাজ করুন, যাবতীয় দায়িত্ব আমার।
সিআরপিএফ-এর একটি অনুষ্ঠানে জ্ঞানেন্দ্র বলেন, কর্তব্য পালনের সময় আপনারা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার সব দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। নির্ভীকভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যান। দায়িত্ব পালনের সময় কোনও দ্বিধা রাখবেন না। যদি কোনও কিছুর দায় বা দায়িত্ব নিতে হয়, সিআরপিএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে তা আমি নেব।
২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি-র সংসদ অভিযানে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের উপর ছররা বন্দুক থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে র্যাফের বিরুদ্ধে। র্যাফের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, ২০ জুলাই র্যাফের অন্তত এক ডজন সদস্যের হাতে ছররা বন্দুক তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিতর্কের জেরে ২৩ জুলাই অবশ্য র্যাফের সদস্যদের ওই অস্ত্রটি ফিরিয়ে দিতে বলা হয়।

দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার জেনারেল ডায়েরিতে দেখা গেছে, ছররা বন্দুক থেকে র্যাফকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) পদমর্যাদার এক আধিকারিক। ২০ জুলাই মধ্যরাতে ওই জেনারেল ডায়েরি দায়ের করেছিল র্যাফ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ডিসিপি-র নির্দেশে’ ৫৫ রাউন্ড নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫ রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল সেল, পাঁচটি কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং দুরাউন্ড ছররা গুলি ব্যবহার করা হয়।
ছররা বন্দুকের গুলিতে মোট পাঁচ জন জখম হয়েছেন। তাঁরা হলেন বছর পঁচিশের শেখ ইরশাদ মনসুরি, ৩২ বছরের নূতন টোপ্পো, ২৫ বছরের প্রশান্ত সিংহ, ১৯ বছরের সাহিল লোচাব এবং এক ইংরেজি ম্যাগাজিনের রিপোর্টার। কনট প্লেসের কাছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা র্যাফের এক সদস্য ছাত্রবিক্ষোভ ঠেকাতে ছররা বন্দুক থেকে গুলি চালিয়েছিলেন।
বুধবার লোকসভায় বিতর্কের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ যদিও বলেছেন, ২০ জুলাই কোনও গুলি চালানো হয়নি। অবশ্য সরকার এটা স্পষ্ট করেনি যে ছররা গুলি চালানো হয়েছে কি না।