পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদনে অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেপ্টেম্বরে তিন সপ্তাহের জন্য শর্তসাপেক্ষে বিদেশযাত্রার অনুমতি দিয়েছেন । আদালতের নির্দেশ, বিদেশ সফর এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে। তাঁর সফরের সম্পূর্ণ আইটিনারির তথ্য তদন্তকারী সংস্থার কাছে দিতে হবে।
আজ বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অধিকার নিয়ে সরকারের বক্তব্যের জবাব দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, একজন ব্যক্তির অধিকার রয়েছে তিনি কোথায় চিকিৎসা করাবেন, তা বেছে নেওয়ার। রাজ্যের আইনজীবী এসভি রাজু বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে গেলে আর দেশে নাও ফিরতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরও ১৫টি মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এস ভি রাজুর আরো বক্তব্য, বিদেশে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পরিবর্তে প্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে মেডিক্যাল রিপোর্ট দেশে নিয়ে আসা যেতে পারে। এর পর বিচারপতিরা জানান, অন্য কোনও মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা নেই, শুধু একটি মামলায় এই বাধা রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন পাল্টা বলেন, বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফিরবেন না—এই আশঙ্কার কোনও ভিত্তি নেই। তাঁর বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছেন । তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ১৬টি মামলাই নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দায়ের করা হয়েছে।
এবার বিদেশযাত্রায় কোনও প্রতিবন্ধকতা থাকল না। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রায় কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। বিদেশে যেতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে যে মামলা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তা খারিজ হয়ে যায়। তার পরেই ৭ অগস্ট গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন । আজ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেই তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে বাধা দেওয়া যায় না। একজন ব্যক্তির বিদেশে যাওয়া এবং নিজের পছন্দমতো চিকিৎসা করানোর অধিকার রয়েছে।