পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কে ? জল গড়িয়েছে অনেক দূর। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে সবথেকে বড় ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের। বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা আবেদনে কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে সরাসরি অস্বীকার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চড। মামলা ফেরত পাঠানো হল সিঙ্গেল বেঞ্চে। ফলে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে আপাতত বহাল থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে আজ, মামলাটিতে ডিভিশন বেঞ্চ এখনই কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। বিরোধীদের নেতা নির্ধারণের বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে নাকি দলের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর– সেই মূল আইনি প্রশ্নটি খতিয়ে দেখার জন্য পুরো বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চেই পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, আগামী দু’মাসের মধ্যে সিঙ্গেল বেঞ্চকে এই সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত শুনানি ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন করতে হবে।
বিধানসভার অধ্যক্ষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আর্জি জানান। তবে আদালত সেই আবেদন পুরোপুরি খারিজ করে দেয়।
শুনানি পর্বে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন , তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করেছিল। দলের অনুমোদন ব্যতিরেকে একজন বিদ্রোহী বিধায়ককে অধ্যক্ষ কী ভাবে বিরোধী দলনেতার পদে স্বীকৃতি দিতে পারেন? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যক্ষের নির্দেশিকার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার দাবিও জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তাতে সায় দেয়নি।
অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের দাবি, বিধানসভার বিরোধী ব্লকের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সুস্পষ্ট সমর্থন তাঁদের দিকেই রয়েছে। ফলে বিধায়কদের সংখাগরিষ্ঠতার মতকে মান্যতা দিয়ে অধ্যক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক।
স্বাভাবিকভাবেই এই পর্যবেক্ষণের ফলে কালীঘাটের তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়ল।