নিউজ ডেস্ক: ধারাপুরে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিমিষা ঠাকুরিয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আশিক আলীর হাঁটুতে গুলি করা হয়, দাবি পুলিশের। তাঁর হাঁটুতে গুলি লাগে।
ঘটনার পর আশিক আলিকে চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়। আশিকের আট দিনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়েছে মঙ্গলবার, তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটেছে।
গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় আশিক আলিকে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে অস্থিবিভাগে ভর্তি ২৬ বর্ষীয় আশিক আলি। জিএমসিএইচ সুপারিনটেনডেন্ট দেবজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, আশিকের পায়ে দুটি গুলি লেগেছে। একটি গুলি তাঁর হাঁটুতে লেগেছে আর একটি গুলি গোড়ালিতে। এরপর তিনি বলেন, তাঁকে কী পরিস্থিতিতে এখানে আনা হয়েছে সেটা জানি না। আমরা তাঁকে একজন রোগী হিসেবেই চিকিৎসা করছে। এখন আশিক বিপন্মুক্ত।
২১ বছর বয়সি নিমিষা ঠাকুরিয়ার রহস্যমৃত্যুতে আশিক আলির জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির একটি হোমস্টেতে অসুস্থ হয়ে পড়েন নিমিষা। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়। গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী নিমিষা আজারা থানা এলাকার ধারাপুরের বাসিন্দা ছিলেন। শুক্রবার ‘রুদ্র’স কিচেন হোমস্টে’-তে রাত্রিবাস করেন নিমিষা ও আশিক। পরদিন ভোরে নিমিষার মৃত্যু হয়।
গুয়াহাটির ডিসি বলিন দেউরি এর আগে জানিয়েছিলেন যে, আশিক আলি দাবি করেছে নিমিশা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই দাবির সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি এবং তদন্তকারীরা ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখছেন।
ডিসি বলিন দেউরি বলেছিলেন, অভিযুক্তকে আটক করেছি, সে এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, অভিযুক্তের দাবি, মেয়েটি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে, কিন্তু আদৌ তা সত্য কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা কোনকিছুই অন্ধভাবে বিশ্বাস করব না। ঘটনার প্রতিটি দিক তদন্ত করে দেখব।”
পুলিশের দাবি, আশিক স্বীকার করেছে যে নিমিষার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীরা এখন বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছেন, যেমন, কীভাবে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল; হোমস্টে-তে নিমিষাকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়ার আগের ঘটনা এবং মৃতদেহ পরীক্ষার সময় শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন।
Next Post