নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশকুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। সংসদ ভবনের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদন অভিযান করেন বিরোধী সাংসদরা। সেখানে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, বিজেপিকে ধ্বংস করে দেব। বিজেপি কী বলল, তাতে আমার কিছু এসে-যায় না। আমরা শুধু ওদের মোকাবিলাই করছি না, আমরা বিজেপিকে ধ্বংস করে দেব।”
সকালে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল করে এগোতে থাকেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদরা। তাঁদের অবশ্য নির্বাচন সদন পর্যন্ত যেতে দেয়নি পুলিশ, নীতি আয়োগের দফতরের সামনে আটকে দেয়। কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা সহ বেশ কয়েকজন সাংসদ ঢুকে পড়েন নির্বাচন সদনের কাছে আকাশবাণী অফিস চত্বরে। আকাশবাণী অফিস চত্বর থেকেই নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমারকে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল গান্ধী।
অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেছেন, রাহুলকে ফের এক বার রাজনীতিতে ‘লঞ্চ’ করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস। এপ্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী বলেছেন, বিজেপি কী বলল, তাতে আমার কিছু এসে-যায় না। আমরা শুধু ওদের মোকাবিলাই করছি না, ওদের ধ্বংস করে দেব।
পুলিশ মিছিল আটকালে আকাশবাণী অফিস চত্বরের ভেতর দিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন রাহুল। কিন্তু সেখানেও পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। এদিকে প্রিয়াঙ্কা সহ আরও কয়েকজন সাংসদ পৌঁছে যান আকাশবাণী অফিস চত্বরে। আকাশবাণী অফিস চত্বর থেকে রাহুল বলেন, আমি এখানে আছি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। আমার সঙ্গে আরও ৩০০ জন সাংসদ এখানে এসেছিলেন। তাঁরাও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চান। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশকুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন।
এরপর তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং মোহন ভাগবত ভোটচুরি করে দেশকে ‘হাইজ্যাক’ করেছেন। তাঁদের সাহায্য করেছেন জ্ঞানেশকুমার। সবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। তাঁরা আমাদের দেশের সঙ্গে যা করেছেন, তা বিশ্বাসঘাতকতা। কেউ পার পাবেন না।
লোকসভা-রাজ্যসভা মিলিয়ে ৩০০ সাংসদ জ্ঞানেশকুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের এখানেই আটকে দিয়েছে। আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। অথচ কেন আমাদের এখানে আটকে রাখা হল, জানি না। নির্বাচন কমিশনের থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে রয়েছি আমরা। তবু দেখা করতে পারছি না। কোথায় সমস্যা, বুঝতে পারছি না। বিরোধী দলের ৩০০ সাংসদ জ্ঞানেশকুমারের সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন, কিন্তু তিনি ভয় পেয়েছেন। দেশে কী হচ্ছে? নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যদি নির্বাচন কমিশন দেখাই না করে, তা হলে গণতন্ত্রের মানে কী!
জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মিছিল থেকে সুর চড়ান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ৯০ লক্ষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে এখনও লক্ষ লক্ষ আবেদন অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে