পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:ফিরে দেখা ২০০৪। আবার ২০২৬। ২০০৪ এ দিল্লিতে মোহনবাগানকে হারিয়েই ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আজ তারই পুনরাবৃত্তি।
আজ যুবভারতী স্টেডিয়ামে মোহনবাগানকে রীতিমতো নাকানি চোবানি খাইয়ে ডুরান্ড জিতল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ৪৫ মিনিটের মধ্যেই ৪-১।
৪-৪-২ ফর্মেশনে শুরু করেছিলেন বাগান কোচ প্যানোস। আজ প্রথম একাদশে ছিলেন না সাহাল আব্দুল সামাদ। উল্টো দিকে ইস্টবেঙ্গল দল ভরসা করেছিল এডমুন্ড-বিপিনের ওপর। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় ডি-বক্সের বাইরে বল পান রশিদ। তাঁর বাড়ানো পাস থেকে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ এগিয়ে দেন বিপিন সিং। এর পরের মিনিটেই আবার গোল। জিকসন সিংয়ের বাড়ানো বল বক্সের বাইরে থেকে মারা জোরালো শটে ঢুকে যায় বাগান গোলে। বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথসহ গোটা বাগানদল যেন হতভম্ব।

এর পরই খেলা জমে যায়। ২০ মিনিটের মাথায় ফ্রি কিক পায় মোহনবাগান। লিস্টনের শট বাঁচিয়ে দেন গিল। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই ৩-০, দানি রামিরেজের বাড়ানো পাস থেকে বল পান এডমুন্ড। রাহুল ভেকেকে কাটিয়ে গোল করতে বেশিক্ষন নেননি তিনি।
মোহনবাগান গ্যালারি তখন যেন শ্মশান। ৩২ মিনিটের মাথায় আপুইয়ার বাড়ানো বল থেকে সুযোগ পান মণবীর সিং।৩-১ করে মোহনবাগান।
তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। পুরো দখল ইস্টবেঙ্গলের। ৪৪ মিনিটের মাথায় রশিদের জয় গুপ্তার মাইনাস থেকে বল বাগান জালে ঢুকিয়ে দেন এডমুন্ড। এর ফলে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক হয়ে যায়। বাইচুং, কিয়ান নাসিরির পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করলেন এডমুন্ড।
এ কথা বলাই বাহুল্য দ্বিতীয়ার্ধে প্রচুর চেষ্টা করেছে মোহনবাগান। ভালো খেলেওছে। কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি। ফলে আর গোলমুখ খুলতে পারেনি মোহনবাগান। একসময় লাল-হলুদ গ্যালারি ভেবেই নিয়েছিল, ১৯৭৫-এর স্মৃতি ফিরিয়ে ৫-০ হচ্ছেই। কিন্তু না, সেটা হল না।
শেষ যে বার ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ড কাপ জিতেছিল, তখনও ময়দান গ্রাস করে নেয়নি কর্পোরেট গোষ্ঠী। মাস কয়েক আগেই এসেছে আইএসএল, ২৩ বছর পর জাতীয় কোনও লিগ জিতেছিল লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব। কয়েক মাস পরেই আবার ডুরান্ড। ২২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন। ২২ বছর প্রচুর অপমান, লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। আজ সেই জবাব দিল লাল হলুদ।