ভারত থেকে দুবাই জাল ওষুধের চক্র

23


নিউজ ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই ব্যাঙ্গালুরুর কাছে বিদাডির একটি খামারবাড়িতে অসাধু উপায়ে দামি ব্র্যান্ডের লেবেল লাগিয়ে কম দামি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রি-প্যাকেজিং করার ঘটনা ফাঁস হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে—অভিযান চালানো ওই স্থানটি অন্য রাজ্য থেকে কম দামের ওষুধ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এরপর সেই ওষুধগুলো নতুন শিশিতে ভরে এবং নতুন লেবেল লাগিয়ে সেগুলোকে দামি বহুজাতিক কোম্পানির নামদিয়ে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই নকল ওষুধগুলোতে কোনো ‘অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট’ বা এপিআই (ওষুধের মূল কার্যকরী উপাদান) থাকে না; বরং এগুলো দূষিত উপাদান বা ক্ষতিকারক পদার্থ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। অভিযানের সময় যেসব নকল ওষুধ জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু উচ্চমানের অ্যান্টিবায়োটিকের হুবহু নকল সংস্করণ। ওষুধের চক্রটির তদন্তের জন্য কর্ণাটক সরকার বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এই দলটির নেতৃত্বে থাকবেন বেঙ্গালুরু (পশ্চিম) জোনের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সি. ভামসি কৃষ্ণা। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ইউ. টি. খাদার বুধবার জানিয়েছিলেন যে, পুলিশ ও এফডিএ যৌথভাবে ৪.৯১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের নকল ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে; তবে তাঁর দাবি এটি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র অর্থাৎ, প্রকৃত অপরাধের বিশাল অংশের তুলনায় এটি সামান্য একটি অংশ ।তিনি আরও জানান যে, কর্ণাটকের কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পেরেছে যে এই নকল ওষুধগুলো হিমাচল প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় তৈরি হয়েছিল; একটি বড় নেটওয়ার্ক বা চক্র সক্রিয় না থাকলে এগুলোর পক্ষে বেঙ্গালুরুতে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মূল হোতা দুবাইতে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কর্ণাটক স্বাস্থ্য বিভাগ এখন খতিয়ে দেখবে কোন কোন ফার্মেসি ও হাসপাতালে এই নকল ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছিল এবং গত দুই বছরে কাদের শরীরে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করবে।