নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবল উত্তেজনা। অরুণাচল প্রদেশের চাংলাং জেলার বরদুমসা-দিয়ুন এলাকায় এসআইআর কর্মীদের বাধা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে অরুণাচল প্রদেশে ছাত্র সংগঠন বা আপসু। সংগঠনের সভাপতি মেজে টাকু বলেছেন, এসআইআর কর্মীদের বাধা দিলে ফল ভুগতে হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় চাকমা জনগোষ্ঠীর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির তীব্র বিরোধ করে আপসু। পুলিশকে লক্ষ করে ইটবৃষ্টি, বিক্ষোভের পর গুলিও চলে। তবে পুলিশ নাকি আপসু কর্মীরা গুলি চালিয়েছ পরিষ্কার নয়। চাকমা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আপসু কর্মীদের। আপসুর এক নেতা কুঠারের আঘাতে আহত হয়েছেন। ঘটনার পর বরদুমাসা এলাকায় প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আপসু সভাপতি মেজে তাকু কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছন, চাংলাং জেলার বরদুমসা-দিয়ুন এলাকায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত আপসু সদস্যদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া বা কাজে বাধা দিলে ফল ভালো হবে না।
তাকু জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনের কোনো সদস্য যদি ভয়-ভীতি বা হুমকির মুখে পড়েন, তবে আপসু নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না।
বরদুমসা-দিয়ুন এলাকার ভোটার তালিকায় সন্দেহজনক নাম বা তথ্যের ক্ষেত্রে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে এবং প্রতিটি এন্ট্রি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছে আপসু।
চাকমা-হাজং এবং অন্যান্য শরণার্থী সম্প্রদায়ের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আপসু। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন।
আপসু সতর্ক করেছে যে, অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা, তাদের আড়াল বা প্রভাবিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা, নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সরকারি কর্মচারীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া আপসু নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে না এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা বা সমর্থন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আপসু বলেছে যে তারা অরুণাচল প্রদেশ জুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নজর রাখবে, বিশেষ করে সেসব এলাকায় যেখানে অসঙ্গতির কারণে আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে তারা মনে করে।
আপসুর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি শুধু একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং এটি রাজ্যের গণতান্ত্রিক অখণ্ডতা ও সাংবিধানিক স্বার্থের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
Prev Post