নেপালের মতো পরিস্থিতি হতে পারে অরুণাচলে!

34

নিউজ ডেস্ক: হিমবাহ-হ্রদ ফেটে যাওয়ায় ভয়ংকর হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। ঘটনার নয় দিন পরও উদ্ধার হচ্ছে মৃতদেহ। ২১২৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি এখনও নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার। নেপালের মতো পরিস্থিতি কিন্তু অরুণাচল প্রদেশেও হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হিমবাহ দ্রুত গলনের ফলে অরুণাচল প্রদেশের হ্রদগুলিতে আকস্মিক বন্যা বা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড, সংক্ষেপে গ্লফ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অরুণাচল প্রদেশে হ্রদ আছে ১২৭টি। এর মধ্যে প্রায় ঝুঁকিহীন ৮৯, ৩৬টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে মাঝারি ঝুঁকি হিসেবে, কিন্তু দুটি হ্রদে ‘গ্লফ’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডিসকভারি হ্যাজার্ডস জার্নালে বলা হয়েছে, হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদে জমা জল হঠাৎ বেরিয়ে এলে ‘গ্লফ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাধারণত প্রাকৃতিক মোরেইন বাঁধ ভেঙে যাওয়াই এর কারণ। অরুণাচল প্রদেশে মাঝারি ও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদগুলির প্রায় সবই রয়েছে আপার দিবাং ভ্যালি, পশ্চিম কামেং এবং তাওয়াং অঞ্চলে। আবার এসব অঞ্চলেই প্রচুর জনবসতি এবং জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো রয়েছে। সেজন্য এসব অঞ্চলে গ্লফ পরিস্থিতির আশঙ্কা বেশি বলা হয়েছে ডিসকভার হ্যাজার্ডস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায়।
অরুণাচল প্রদেশে গত কয়েক বছরে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদগুলিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৮৮ সালে অরুণাচলে ১১০.৭২ হেক্টর এলাকা জুড়ে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের সংখ্যা ছিল ২৪। ২০২০-তে এধরনের হ্রদের সংখ্যা কমে ২২ হলেও তাদের এলাকা বেড়ে হয়েছে ১২৫.৯৩ হেক্টর।
১৯৮৮ থেকে ২০২০-এর মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের এলাকা বৃদ্ধির অর্থ হল, হ্রদগুলির আয়তন দ্রুত বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তা হল বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং আবহাওয়া পরিবর্তন। ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার কারণে হিমবাহ গলে সেই জল নেমে আসছে নীচের দিকে। ফলে নতুন হ্রদ সৃষ্টি হচ্ছে আর পুরনো হ্রদের আকার বেড়ে যাচ্ছে।
অরুণাচল প্রদেশ এমনিতেই ‘গ্লফ’ ও তুষারধস-প্রবণ রাজ্য। তাই তুষারধস-প্রবণ এলাকা এবং হ্রদগুলি নজরদারিতে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।