৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হবে স্বতন্ত্রকে: দিল্লি পুলিশ

48

নিউজ ডেস্ক: সিজেপি আন্দোলনের সময় এক আন্দোলনকারীর বাবার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পরও আমাকে কেউ গ্রেফতার করতে পারেনি, ভাইরাল হওয়া পডকাস্টে দাবি করেছিল স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। বৃহস্পতিবার এই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরই আসরে নামে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, উত্তর প্রদেশের সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ প্রমুখ। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সময় এক আন্দোলনকারীর বাবার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও জেলে যেতে হয়নি—দাবি করেছিল স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ দাবি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল পডকাস্টে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার কথিত সম্পর্কের বিষয়ে দম্ভোক্তি করতে দেখা গেছে; তার দাবি, এই সম্পর্কের কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। দিল্লি পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে যে ওই ব্যক্তির আঘাত গুরুতর ছিল না এবং এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভরদ্বাজকে আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সময় নিশু আজাদ নামে এক ছাত্রীর বাবা সঞ্জয় কুমারকে মারপিটের অভিযোগ ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে। পাটনার কঙ্করবাগের বাসিন্দা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে আটক করা হলেও পরে তাঁকে ছেড়ে দেয় দিল্লি পুলিশ।

পডকাস্টে কী বলেছিল স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ?
পডকাস্টে ভরদ্বাজকে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাবি করতে দেখা যায় যে, সে এক আন্দোলনকারীর বাবার মাথার খুলি ফাটিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর মাথায় ৬০টি সেলাই লেগেছিল। ইনস্টাগ্রামে ১.৮৪ লক্ষ ফলোয়ারের অধিকারী ভরদ্বাজ পডকাস্টে বলে, জানেন এই অপরাধের জন্য কোন ধারা প্রযোজ্য? ৩০৭ নম্বর ধারা (হত্যার চেষ্টা)। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অবস্থায় তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিলেন।
এরপরই স্বতন্ত্র বলে, কিন্তু আমাকে জেলেও যেতে হয়নি। বিশ্বের এটা জানা উচিত। আমি সারারাত বাইরে ঘুরে বেড়িয়েছি। কথা প্রসঙ্গে বলে, দিল্লির বিধায়ক কপিল মিশ্র তার জন্য ফোন করেন। চিরাগ পাসোয়ান তার বড়ভাই। এইপ্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে স্বতন্ত্র।
সিজেপি-র বিক্ষোভে তাকে যে লাঠি হাতে দেখা গিয়েছিল, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভরদ্বাজ বাঁকা হাসি হেসে উত্তর দেয়, আমার জুতোটা দেখতে পাচ্ছেন? এই জুতোটা দিল্লি পুলিশের। আমি কোনো ফর্ম পূরণ করিনি, কিন্তু এমনিতেই আমি দিল্লি পুলিশের মতো ঘুরে বেড়াই।
মজার বিষয় হল, ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের জেরে তীব্র ক্ষোভের মুখে ভরদ্বাজ বলে যে, আত্মরক্ষার্থেই সে ওই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছিল। এএনআই-কে ভরদ্বাজ বলে, মানুষ যেটিকে হামলা বলছে, তা আসলে ছিল আত্মরক্ষার তাগিদে করা একটি কাজ। আত্মরক্ষার জন্য পদক্ষেপ না নিলে উত্তেজিত জনতা আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারত বা আমার প্রাণও যেতে পারত। তাঁকে আক্রমণ করার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি। আমার কাছে এর ভিডিও প্রমাণ রয়েছে, বলে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। তবে কিছুক্ষণ পরই এই ভিডিয়ো মুছে দিয়েছে এএনআই।

পডকাস্ট ভাইরাল হওয়ার পর, আন্দোলনরত ওই ছাত্রী রাহুল গান্ধীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। সমাজমাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিয়োতে নিশু আজাদ বলেন, ভরদ্বাজের মতো ব্যক্তিদের, যারা আইনকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করে না, অবশ্যই কারাগারে পাঠানো উচিত।
বিরোধী দলনেতা দ্রুত এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কেন ভরদ্বাজকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সে কি কোনও রাজনৈতিক সুরক্ষা পাচ্ছে?
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমি তোমার পাশে আছি, ছাত্রীকে আশ্বস্ত করে লেখেন রাহুল গান্ধী।
রাহুল টুইট করেন, একদিকে অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে, অন্যদিকে, যে অপরাধী এক দলিত তরুণীর বাবার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল, সে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও শাহকে ট্যাগ করে গান্ধী প্রশ্ন করেন, এমন একজন অপরাধী কেন আপনাদের এবং আপনাদের দলের লোকজনের সুরক্ষা পাচ্ছে? এখন কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি আপনারা তাকে আড়াল করতেই থাকবেন?
শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ, সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার উপস্থিতিতে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন ধারায় এফআইআর করেছে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।