জুবিনের স্মৃতিচারণায় গরিমা

24

নিউজ ডেস্ক: জুবিন গার্গের মৃত্যুর পর দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর কেটে গেল। গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে জুবিনের হঠাৎ মৃত্যু চমকে দিয়েছিল গোটা দেশকে। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকার প্রাক্কালে জুবিন গার্গের স্মৃতিচারণায় মগ্ন তাঁর স্ত্রী গরিমা শইকিয়া। সম্প্রতি কলকাতায় গরিমা বলেছেন, কলকাতার সঙ্গে জুবিনের ছিল ওতপ্রোত সম্পর্ক। সত্যি কথা বলতে কী, ও ছিল অর্ধেক বাঙালি। জুবিন যতটা অসমের, ততটাই পশ্চিমবঙ্গেরও। জুবিন বড় হয়েছে বাঙালিদের সঙ্গে, ওর প্রচুর বন্ধু বাঙালি।
বিভিন্ন বাংলা সিনেমায় গান গেয়েছেন জুবিন গার্গ। শুধু বাংলা ছবি নয়, আলাদা করে বাংলা গানও কম নেই জুবিনের। এইসঙ্গে বাংলা সিনেমা দেখতে এবং বাংলা বই পড়তে পছন্দ করতেন জুবিন, বলেন গরিমা। এইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশের প্রতিও টান ছিল জুবিনের। মাছ খেতে ভালোবাসত। পোস্ত খেত একেবারে বাঙালিদের মতো। সপ্তাহে অন্তত একদিন আমরা বাঙালি খাবার খেতাম, বলেন গরিমা।
মৃত্যুর আগে রীতা চৌধুরীর পডকাস্টে জুবিন দাবি করেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর সাতদিন বন্ধ থাকবে গুয়াহাটি। হয়েছিলও তাই। সেকথা উল্লেখ করে গরিমা বলেছেন, ও সবসময় বলত, আমার কিছু হয়ে গেলে সাতদিন অসম বন্ধ হয়ে যাবে। ও যখনই কোনও কিছুর দাবিতে বা প্রতিবাদে পথে নামত, ওর ডাকে সাড়া দিত হাজার হাজার মানুষ। সেখান থেকেই হয়তো সাতদিন বন্ধ থাকার কথাটা জোর দিয়ে বলত। জুবিন আপামর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে।
জুবিনহীন এক বছর নিয়ে গরিমা বলেছেন, মনের মধ্যে একটা লড়াই চলছে। জুবিনকে আমি আমার মনের মধ্যে বাঁচিয়ে রেখেছি। অনেক সময় মনে হয়, জুবিন আছে আমার সঙ্গে। আবার কখনো বুঝি, এক বিরাট শূন্যতা আমাকে ঘিরে রেখেছে। এই শূন্যতা আজীবন থাকবে। আমি এখন বেঁচেই রয়েছি জুবিনের অনুপ্রেরণায়। আমার থামলে চলবে না। জুবিনের ঐতিহ্য বহন করার দায়িত্ব আমার। তবে আমি যোগ্য কি না জানি না, বলেন গরিমা গার্গ।
জুবিনের সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গে গরিমা জানিয়েছেন, ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়েছিল। মুম্বাইয়ে পড়াশোনা করতেন গরিমা। জুবিনের গানে মুগ্ধ হয়ে চিঠি লেখেন। তারপর প্রেম।
অসমের মানুষ জানে, শুধু গানই নয়, এ ছাড়া প্রচুর কাজে যুক্ত ছিলেন জুবিন গার্গ। আন্দোলন করেছেন, সব ধরনের বাদ্য বাজাতেন। সিনেমা করেছেন। পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছেন। নতুন প্রজন্ম ও বাচ্চাদের শিক্ষার জন্যও কাজ করেছেন জুবিন। এবিষয়ে গরিমা বলেছেন, জুবিন ছিল এমন একজন মানুষ যে ১০০ জনের কাজ করার ক্ষমতা রাখত।
জুবিনের জীবন ও কর্ম নিয়ে বাঙালি প্রীতম ছবি করছেন। ছবির নাম লাভ ইউ জুবিনদা। সেই ছবির শুটিং শুরু হল কলকাতায়। সেই শুটিং উপলক্ষেই কলকাতায় গিয়েছিলেন গরিমা শইকিয়া গার্গ।