দুহাজার পর্যন্ত ফ্রি, কিন্তু তারপর?

24

নিউজ ডেস্ক: ইউপিআই মাধ্যমে লেনদেনে ২০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে না। কিন্তু তারচেয়ে বেশি টাকা লেনদেন করলে কী হবে? ইউপিআই লেনদেন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তির পর এই প্রশ্নই করছেন সাধারণ মানুষ।
লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের জন্য, ইউপিআই মাধ্যমে লেনদেন নিয়মিত কাজ। এইপিআই মানে দ্রুত স্ক্যান, একটি পিন এবং পেমেন্ট।
কিন্তু ইউপিআই সংক্রান্ত মাশুল বা চার্জ নিয়ে সম্প্রতি একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে। বড় অঙ্কের ইউপিআই পেমেন্ট করার জন্য কি শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীকে মাশুল দিতে হতে পারে?
সরকার এই বিষয়ে জানিয়েছে, ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা পেমেন্ট সিস্টেম প্রদানকারী সংস্থা কোনও মাশুল ধার্য করতে পারবে না।
কিন্তু ২,৫০০, ৫,০০০ বা ২০,০০০ টাকার পেমেন্টের ক্ষেত্রে কী হবে? এখানেই বিষয়টি নিয়ে আরও ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকার ঠিক কী বলেছে?

অর্থ মন্ত্রক এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনকে যেমন ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেন এবং রুপে চালিত ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট, ইলেকট্রনিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার ওপর ব্যাংক বা সিস্টেম প্রদানকারীরা কোনও মাশুল বা চার্জ আরোপ করতে পারবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই নির্দিষ্ট মাধ্যমগুলোর সাহায্যে যারা পেমেন্ট করছে বা গ্রহণ করছে, তাদের ওপর কোনও ব্যাংক বা সিস্টেম প্রদানকারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো চার্জ আরোপ করতে পারবে না।
এর অর্থ, কোনও গ্রাহক যদি ইউপিআই-এর মাধ্যমে ২,০০০ টাকা পেমেন্ট করে, তবে ব্যাংক বা পেমেন্ট সিস্টেম প্রদানকারী কোনো লেনদেন ফি যোগ করবে কি না, তা নিয়ে তাকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।
রুপে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে পেমেন্টের ক্ষেত্রেও একই সুরক্ষা প্রযোজ্য।

তাহলে কি দুহাজার টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রে মাশুল দিতে হবে?

স্বয়ংক্রিয়ভাবে নয়। বিষয়টি সহজেই ভুল বোঝা হতে পারে। সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে এমনকিছু কথা বলা হয়নি যে, ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্ট করলেই গ্রাহককে এখন কোনও ফি দিতে হবে।
বরং, পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট-এ আনা সাম্প্রতিক পরিবর্তন নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে মাশুল বা চার্জ চালু করার আইনি কাঠামো তৈরি করেছে।
সরকার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, ভবিষ্যতে কোনও মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) চালু হলে তা শুধু নির্দিষ্ট সীমার ওপরের কিছু বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সরকার এটাও জানিয়েছে যে, ইউপিআই মাধ্যমে পেমেন্ট করা গ্রাহকদের কোনও লেনদেন-জনিত চার্জ দিতে হবে না।
সহজ কথায়, গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রে ২,০০০ টাকা কোনও নতুন ঘোষিত সর্বোচ্চ সীমা নয়। বর্তমানে এমন কোনও মাশুলের কথা ঘোষণা করা হয়নি যা কেবল ইউপিআই পেমেন্টের পরিমাণ ২,০০০ টাকা অতিক্রম করলেই কার্যকর হবে।

২,০০০ টাকার বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

২,০০০ টাকার এই অঙ্কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিমাণ পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনকে বিশেষভাবে একটি সুরক্ষিত শ্রেণি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর পেছনে বৃহত্তর নীতিগত আলোচনার বিষয় হল, ইউপিআই-এর বিশাল ও ক্রমবর্ধমান লেনদেনের চাপ সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোর খরচ কীভাবে মেটানো হবে।
ইউপিআই অভাবনীয় গতিতে প্রসারিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইউপিআই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৪৪ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ৭৪১ হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে মাসিক ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা ২,৩৬৬ কোটিতে পৌঁছেছে।
ঠিক এখানেই এমডিআর বিষয়টি সামনে আসে।

এমডিআর কী এবং এর খরচ কাদের বহন করতে হতে পারে?

এমডিআর বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট হল ডিজিটাল পেমেন্ট বা লেনদেন করার জন্য মাশুল।
ইউপিআইয়ের ক্ষেত্রে আলোচনাটি মূলত বড় ব্যবসায়ীর জন্য। যারা উচ্চমূল্যের ইউপিআই পেমেন্ট গ্রহণ করে।
সরকার ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, ভবিষ্যতে যদি কোনও এমডিআর চালু করা হয়, তবে তা হবে নামমাত্র এবং একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপরের লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্বাচিত ব্যবসায়ীদের জন্যই প্রযোজ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্ভাব্য হার ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৪ শতাংশের মধ্যে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে; যদিও সরকারের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এধরনের কোনও হার ঘোষণা করা হয়নি।
যদি এমডিআর চালু করা হয়, তবে সেই মাশুল ব্যবসায়ী বা পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের ওপরই ধার্য হবে। এর অর্থ এই নয় যে, ইউপিআই মাধ্যমে ৫,০০০ টাকা পেমেন্টকারী গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত কোনও ফি কেটে নেওয়া হবে।
সরকার বারবারই বলে আসছে যে, সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইউপিআই পরিষেবা মাশুলহীন থাকবে।

ইউপিআই ব্যবহারকারীদের যা জানা দরকার

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ইউপিআই মাধ্যমে ৫০০, ১,৫০০ বা ২,০০০ টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট এখনও মাশুলহীন। অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে না।
ইউপিআই মাধ্যমে ৫,০০০ বা ১০,০০০ টাকা পেমেন্ট করলেও, শুধুমাত্র পেমেন্টের পরিমাণ ২,০০০ টাকার বেশি হওয়ার কারণে বর্তমানে সরকারের ঘোষিত এমন কোনও গ্রাহক-লেনদেন ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না।
ভবিষ্যতে যা পরিবর্তিত হতে পারে তা হল, বড় অঙ্কের লেনদেন প্রক্রিয়াজাত করার খরচ ব্যাংক, পেমেন্ট কোম্পানি এবং নির্দিষ্ট কিছু মার্চেন্ট কীভাবে পুনরুদ্ধার করবে, সেই পদ্ধতি।
তাই ২,০০০ টাকার এই সীমাটিকে ইউপিআই মাধ্যমে খরচের কোনও নতুন ঊর্ধ্বসীমা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোথায় চার্জ আরোপ করা যাবে আর কোথায় যাবে না সে বিষয়ে সরকারের নতুন কাঠামোর একটি অংশ হিসেবেই এটিকে বোঝা শ্রেয়।