পিএফ-এর বেতনসীমা একধাক্কায় ১৫ থেকে বেড়ে ২৫ হাজার

21

নিউজ ডেস্ক:বিশ্বকর্মা জয়ন্তীর প্রাক্কালে দেশের লক্ষ লক্ষ বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড়সড় উপহার দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর অধীনে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির জন্য বেতনের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় ১০,০০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এতদিন পর্যন্ত এই নিয়ম মাসে ১৫,০০০ টাকা মূল বেতনযুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকলেও, এখন থেকে তা বাড়িয়ে প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা করার প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা

আজ, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, “২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই বেতনসীমা ১৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ১২ বছরে দেশে গড় বেতন এবং জীবনযাত্রার খরচ অনেকটাই বেড়েছে। তাই দীর্ঘদিনের এই দাবি মেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বেতনসীমা: প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) বাধ্যতামূলক কভারেজের সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হলো ২৫,০০০ টাকা।
কারা উপকৃত হবেন: যে সমস্ত কর্মীদের মূল বেতন (Basic Salary) ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে, তাঁরা এবার সরাসরি বাধ্যতামূলক পিএফ এবং পেনশন (EPS) সুরক্ষার আওতায় চলে আসবেন।
উপকৃত কর্মীর সংখ্যা: কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে দেশের অতিরিক্ত ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী সরাসরি সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পাবেন।
সরকারি খরচ: এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার ফলে ভারত সরকারের তহবিল থেকে প্রতি বছর প্রায় ১১,৩৩৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
কবে থেকে কার্যকর: আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে

হাত থেকে টাকা কমলেও এটি আপনার লোকসান নয়। কারণ আপনার নিজের ৩,০০০ টাকার পাশাপাশি কোম্পানিও আপনার জন্য সমপরিমাণ (৩,০০০ টাকা) অবদান রাখবে। এর ফলে আপনার ইপিএফ প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং রিটায়ারমেন্ট পেনশনের পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যে সমস্ত কর্মীদের বেতন ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে, তাঁদের পিএফ ও পেনশন তহবিলে (EPS) নিয়োগকর্তা এবং নিজের তরফ থেকে অবদান বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে তাঁদের হাতে পাওয়া চলতি বেতন সামান্য কমলেও, ভবিষ্যৎ বা অবসরের পরের জন্য জমানো ফান্ডের পরিমাণ একলাফে অনেকখানি বেড়ে যাবে এবং চাকরিজীবীদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে