ক্যামাক স্ট্রীটের অফিস নিয়ে আপাতত স্বস্তি কালীঘাট তৃণমূলের

20

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টে আপাতত স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করা নিয়ে দমকলের নোটিস খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট।

ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নয়, এই অভিযোগে অবিলম্বে ওই দু’টি তলা খালি করার নোটিস দেয় দমকল। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে গিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল।

৪ সেপ্টেম্বর দমকল যে নোটিস দিয়েছিল, সেই নোটিস খারিজ করল হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঞ্চল বেঞ্চ।

বিচারপতির নির্দেশ, কালীঘাট তৃণমূলকে আবার নোটিস দিতে হবে দমকলকে। নোটিস দিয়ে ওই অফিস পরিদর্শন করবে দমকল। আগুন লাগলে সুরক্ষার জন্য ওই অফিসে কী কী প্রয়োজন, তা দমকলকে জানাতে হবে। কালীঘাট তৃণমূলকে সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য ওই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। যদি কালীঘাট তৃণমূল পদক্ষেপ না করে, তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে দমকল।

১১ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানিতে কী হয়েছিল ?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল:

“ক্যামাক স্ট্রিকের দু’টি তলা লিজ নেওয়া হয়। এই বছরের ২৬ অগস্ট লিজ বাতিল করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে মামলা হয় নিম্ন আদালতে। এখন অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ পদক্ষেপ করে বলছে যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। দমকল আধিকারিকরা ভবনটি পরিদর্শন করেন এবং ছাদে বেআইনি নির্মাণ ও সপ্তম তলায় বেশ কয়েকটি গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা আছে বলে জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে পুরো ভবনটিতেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় বলে ঘোষণা করা উচিত ছিল। কিন্তু অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ কেবল দু’টি তলাকেই নিরাপদ নয় বলেছে। সিলিন্ডারগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই ত্রুটিগুলি ভবনের মালিককেই ঠিক করতে হবে।”

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্রর সওয়াল:

” সাত তলায় অনেক সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছে। এটা অস্বীকার করেননি মালিক। কিন্তু, তা পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়নি। শুধু প্রশ্ন তুলেছে এটা অপ্রয়োজনীয়। ফায়ার এলার্ম কাজ করছিল না। ৪৫ ফায়ার স্প্রিংকাল থাকলেও সেগুলি অন্যান্য তল থেকে অনেক কম। অনেক কিছুই ডিফেক্টিভ ও নন ফংশান ছিল। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এগুলি মালিকের দায়িত্ব।”

দুই পক্ষের সওয়ালের পর দমকলের নোটিসে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আজ এই নোটিস খারিজ করে দেন।