গোয়ালপাড়ায় উচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আদালতের, সরকারকে ভর্ৎসনা গুয়াহাটি হাইকোর্টের

18

নিউজ ডেস্ক: গোয়ালপাড়ায় ৭৩টি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে এই পদক্ষেপ অবৈধ ও অননুমোদিত বলে মনে হচ্ছে।
ব্যক্তিগত কৃষিজমিতে অবস্থিত বাড়িগুলো ৭ সেপ্টেম্বর ভেঙে ফেলা হয়। এর মাত্র দুদিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর, স্থানীয় সার্কেল অফিসার বাসিন্দাদের এবিষয়ে নোটিস দিয়েছিল।
ওই নোটিশে বাসিন্দাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাড়িঘর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে তা না করলে আসাম ল্যান্ড অ্যান্ড রেভিনিউ রেগুলেশন, ১৮৮৬ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৫ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাড়িঘর ভাঙার পর একুশজন বাসিন্দা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁরা ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যুক্তি দেন যে, প্রস্তাবিত এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার বা আপত্তি জানানোর কোনও সুযোগ তাঁদের দেওয়া হয়নি।
৭ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে আদালত আসাম কৃষি জমি আইন, ২০১৫ উল্লেখ করে জানায় যে, প্রযোজ্য শর্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ এক বিঘা কৃষিজমিতে অনধিক দোতলা নিজস্ব বসতবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ প্রাথমিকভাবে বেআইনি ও অননুমোদিত বলে মনে হচ্ছে এবং এটি স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে চলার বিষয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।


আদালত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছে, বর্তমান সময়ে, যখন এ বিষয়ে বহু সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি ও নজির রয়েছে, তখন আবেদনকারীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ না দিয়েই এ ধরনের নোটিস জারি করাটা একেবারেই অকল্পনীয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, নোটিসে এমন কোনও আসন্ন বিপদের ইঙ্গিত ছিল না যা ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারে।
জেলা প্রশাসনকে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রতিবেদনে সেই পরিস্থিতি এবং কথিত আসন্ন বিপদের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে যার কারণে বাড়িঘর ভাঙার প্রয়োজন হয়েছিল।
প্রশাসনের উল্লেখ করা কোনও আসন্ন বিপদের প্রমাণ পায়নি হাইকোর্ট।
১১ সেপ্টেম্বরের আদেশে হাইকোর্ট বলেছিল, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতে যে নথিপত্র বা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা থেকে এমন কোনও আসন্ন বিপদের প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা বাড়িঘর ভাঙার মতো পদক্ষেপকে সমর্থন করতে পারে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হয়েছে,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেই এই বুলডোজার চালানো হয়েছে।
এই মামলাটি আসামে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে উচ্ছেদের আগে কর্তৃপক্ষের অনুসৃত আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।