মিস ইউ জুবিন, মৃত্যুবার্ষিকীতে লিখলেন হিমন্ত

36

নিউজ ডেস্ক: অসমের আইকন জুবিন গার্গের মৃত্যুবার্ষিকীতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লিখলেন মিস ইউ জুবিন। শুধু লেখাই নয়, এইসঙ্গে নিজের সঙ্গে জুবিনের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন হিমন্ত। তিনি লিখেছেন, জুবিনের অনুপস্থিতিতে এমন এক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে যার মধ্যে আমাদের বেঁচে থাকতে হচ্ছে। এটা এমনই এক শূন্যতা যা কখনো মেনে নেওয়া যায় না।


সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্র, যেখানে এই শিল্পীর শেষ শয়নস্থল অবস্থিত, তিন দিনব্যাপী ‘জুবিন দিবস’ পালন হচ্ছে। স্মরণসভা ও অন্যান্য কর্মসূচির আগে অনুষ্ঠানস্থলটি ফুল এবং নতুন গামোছা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সকালে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সূচনা হয় এবং বিকেলে ‘নাম-প্রসঙ্গ’-এর আয়োজন ছিল। দ্বিতীয় দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, আর শেষ দিনে রয়েছে ভাগবত পাঠ ও ভাওনা পরিবেশন।


জুবিন গার্গের মৃত্যুর এক বছর পর, ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার সোনাপুরের জুবিন ক্ষেত্রে সমবেত হয়েছেন হাজার হাজার অনুরাগী।
গুয়াহাটির উপকণ্ঠে অবস্থিত এই অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে অনুরাগী, পরিবারের সদস্য ও শিল্পীদের বিশাল সমাগম দেখা যায়।

সবাই জুবিনের গান গেয়ে এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন। অসম সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচি বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছিল যা শনিবার শেষ হচ্ছে।


২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে রহস্যমৃত্যু ঘটে জুবিন গার্গের। অসমিয়া ও ভারতের অন্যান্য ভাষার সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে এক বিশাল অবদান রেখেছেন জুবিন। জুবিনের মৃত্যুর পর সমগ্র অসমে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তাঁর মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তের দাবি ওঠে।


শুক্রবার গায়ক অঙ্গরাগ মহন্ত ‘জুবিন ক্ষেত্র’ পরিদর্শন করেন এবং জুবিনের স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গার্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে যখন জুবিনের গান গাওয়া হচ্ছিল, তখন পাপন বলেন যে, ভুলত্রুটির জন্য সমালোচনা করার পরিবর্তে তরুণ প্রজন্মকে প্রয়াত এই শিল্পীর গান গাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা উচিত।


পাপন বলেছেন, আমার মনে হয়, এত বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর প্রাণখুলে জুবিনের গান গাওয়াটা সত্যিই এক সুন্দর দৃশ্য। তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এটি সঠিক সময় নয়, বরং তাঁর গান গাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহিত করা উচিত। ভুলগুলো পরে শুধরে নেওয়া যাবে।


বর্ষীয়ান অভিনেতা অরুণ হাজরিকাও স্মৃতিস্থল পরিদর্শন করেন এবং জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন। তিনি বলেন, মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই শিল্পীর রেখে যাওয়া অবদানের প্রতি জনগণের আগ্রহ আজও অটুট রয়েছে। আমরা জুবিনের জন্য ন্যায়বিচার চাই, কিন্তু তা যেন অন্য কারও প্রতি অবিচারের বিনিময়ে না হয়, বলেন অরুণ হাজরিকা।


শুক্রবার অসমের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে জুবিনের শেষ চলচ্চিত্র রৈ রৈ বিনালে-র পুনঃপ্রদর্শনকেও হাজরিকা স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জুবিনের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করা উচিত।


এদিকে, শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ জুবিন ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন এবং ১৯ সেপ্টেম্বর দিনটিকে ‘জুবিন দিবস’ হিসেবে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য আসাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


অখিল গগৈ জুবিনের মৃত্যুর তদন্ত-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়েও অসম সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে এই প্রক্রিয়াটি ছয় মাসের মধ্যেই শেষ হওয়া উচিত ছিল এবং জুবিন ক্ষেত্রের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে তাঁর প্রয়াণের এক বছর পরেও জুবিন ক্ষেত্রের সীমানা প্রাচীরটুকুও নির্মাণ করা হয়নি, বলেন অখিল গগৈ।