আডবাণী-কেজরিওয়ালকে এসআইআর নোটিস!

42

নিউজ ডেস্ক: এসআইআর নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। বিভিন্ন অসংগতির জেরে দেশের প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় এবং নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধুকেও এসআইআরের নোটিশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখানেই শেষ নয়, নোটিস পেয়েছেন দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গোটা পরিবার। নোটিস পেয়েছেন বর্তমান নির্বাচন কমিশনার এস সান্ধু।


রাজধানীর মোট ৯৭ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৩৩ লক্ষ ভোটারই কমিশনের নোটিস পেয়েছেন। যদিও কমিশনের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, সান্ধুর নাম সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়েছে। এবার তাঁর নাম সংশোধিত ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


নোটিস পেয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবল। সাংসদের স্ত্রীকেও নোটিশ পাঠিয়েছে কমিশন। এপ্রসঙ্গে কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে কপিল বলেন, এসআইআর মানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নয়। বিশেষ ও নিবিড় কায়দায় ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।


অন্যদিকে, দিল্লির নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় থাকা তথ্যগত অসংগতির কারণে বেশ কয়েকজন এসআইআর নোটিস পেয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নোটিশ গিয়েছে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। কমিশনের দাবি, সেই সমস্ত বিবাদের অবসান ঘটিয়ে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


তাৎপর্যপূর্ণভাবে যে ভোটারদের নোটিস পাঠানো হয়েছে তাঁদের বেশিরভাগই নিউ দিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। দিল্লির রাজনীতিতে এই আসনটির বিশেষ গুরুত্ব আছে। অতীতে দিল্লির দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই আসন থেকে নির্বাচিত হতেন।


আডবাণীর পাশাপাশি তাঁর কন্যা প্রতিভা এবং পুত্রবধূ গীতিকাকেও নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। তবে আডবাণী-তনয় জয়ন্ত নোটিস পাননি। নোটিস পাওয়া এই তিনজনই নিউ দিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এবং তাঁর স্ত্রীও নোটিস পেয়েছেন।


তথ্য বলছে, ভোটার তালিকা অনুসারে দেশের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেরই ঠিকানা উপরাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন। সেখানেও নোটিস গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনার সান্ধুর নাম নিয়ে অসংগতি থাকায় তাঁর কাছেও নোটিশ গিয়েছিল।
এর আগে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি, দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া, জেএনইউর প্রাক্তন উপাচার্য এম জগদেশ কুমার, দিল্লির প্রাক্তন উপরাজ্যপাল নজিব জং, নীতি আয়োগের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগড়িয়া, সেবি চেয়ারম্যান তুহিনকান্ত পান্ডে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী এবং সিবিআই ডিরেক্টর প্রবীণ সুদও বিভিন্ন সময় নোটিস পেয়েছেন।


রেখা গুপ্ত এসআইআর নোটিস পেয়েছেন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’তে। তাঁর বাবা বা মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম। আসলে একা রেখা গুপ্ত নন, দিল্লির প্রায় ৩৩ লক্ষ ভোটারের বাড়িতে নোটিস পৌঁছেছে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর নাম বাদ দেওয়া হয়নি। শুধু বিএলও বাড়ি গিয়ে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তাঁর নাম যাচাই করেছেন। অন্যদিকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পরিবার এসআইআরের সঙ্গে নাম ম্যাপ করেননি বলে নোটিস পেয়েছেন।


কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, গোটা দেশে নাম বাদ দেওয়ার হার ১৭ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ৫.৪৩ কোটি ভোটারকে নোটিস দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নথিপত্র দিতে। যার অর্থ আরও ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় আছে। এত বড় সংখ্যার ভোট বাদ পড়ছে যা এসআইআর প্রক্রিয়ার কাঠামোগত ত্রুটিই চিহ্নিত করছে।