নিউজ ডেস্ক: গুয়াহাটির চন্দ্রপুরে ইসরোর অ্যাডভান্সড রাডার রিসার্চ সেন্টার-এর ভিতপ্রস্তর স্থাপন। প্রজেক্ট নেত্রা -র অংশ হিসেবে এই কেন্দ্র মহাকাশে বিভিন্ন বস্তুর গতিবিধি শনাক্ত করবে। এইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ সম্পদ সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। একসময় যে রাজ্যটিকে ভারতের প্রধান প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলো থেকে অনেক দূরে বলে মনে করা হতো আজ সেখানে এধরনের অত্যাধুনিক জাতীয় পরিকাঠামো গড়ে উঠতে দেখা অত্যন্ত সন্তোষজনক, সমাজমাধ্যমে লিখেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছেন যে, মহাকাশ-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অসমের চন্দ্রপুরে প্রজেক্ট নেত্র-র অধীনে ইসরোর অ্যাডভান্সড রাডার রিসার্চ সেন্টার-এর ভিতপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে।
এই কেন্দ্রকে কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করে হিমন্ত বলেন যে, এর লক্ষ্য মহাকাশে বিভিন্ন বস্তুর গতিবিধি শনাক্তকরণ এবং ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ সম্পদ সুরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
হিমন্ত বলেন, আজ আমরা আসামের চন্দ্রপুরে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন-এর অ্যাডভান্সড রাডার রিসার্চ সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম।
এই উদ্যোগ ইসরোর নেটওয়ার্ক ফর স্পেস অবজেক্ট ট্র্যাকিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য মহাকাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এবং মহাকাশের বিভিন্ন বস্তুর ওপর নজরদারি। রাডার স্থাপনের জন্য ইসরো চন্দ্রপুরে ৬৭ একর জমি চিহ্নিত করেছে। ইসরোর ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর এর চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশনের কাজ শেষ হয়।
প্রজেক্ট নেত্রা-র লক্ষ্য মহাকাশে ক্রমেই বেড়ে চলা বস্তুর ভিড় বা যানজটের মধ্যে নজরদারি চালানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং ভারতের নিজস্ব উপগ্রহ ও অন্যান্য মহাকাশ-সম্পদকে সুরক্ষিত রাখা। ইসরো এই কর্মসূচির প্রধান উপাদান হিসেবে একটি রাডার, একটি অপটিক্যাল টেলিস্কোপ কেন্দ্র এবং একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে চিহ্নিত করেছে।
মহাকাশ পরিস্থিতি বিষয়ক সচেতনতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করা ইসরো এসএসএ কন্ট্রোল সেন্টার ২০২০ সালে বেঙ্গালুরুতে স্থাপন করা হয়েছিল। এই ব্যবস্থাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা মহাকাশের বস্তুর গতিপথ অনুসরণ, কক্ষপথ নির্ধারণ, সংঘর্ষ এড়ানোর সতর্কবার্তা প্রদান এবং উপগ্রহ ও রকেটের অবশিষ্টাংশের বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের ওপর নজরদারির মতো কাজ পরিচালনায় সহায়তা করে।
হিমন্ত বলেছেন, অসমে রাডার কেন্দ্র স্থাপন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অসমের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারই প্রতিফলন।
হিমন্তর কথায়, যে রাজ্যকে একসময় ভারতের প্রধান প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলো থেকে অনেক দূরে বলে মনে করা হত, আজ সেখানে এধরনের অত্যাধুনিক জাতীয় পরিকাঠামো গড়ে উঠতে দেখাটা অত্যন্ত সন্তোষজনক।
Prev Post
Next Post