ছাত্র মৃত্যু বিতর্কে সাসপেন্ড আইআইটি ডিন

23

নিউজ ডেস্ক: আইআইটি-বোম্বের অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ ডুলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ডিন পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মিড-সেমিস্টার পরীক্ষার সময় নকল করার অভিযোগে ধরা পড়ার পর দ্বিতীয় বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের আত্মহত্যার ঘটনার তিন দিন পর এই পদক্ষেপ করল আইআইটি বোম্বে।
পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অভিযোগে ধরা পড়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ১৮ সেপ্টেম্বর ওয়াকোডের মৃত্যু হয়। এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ডুল্লা সেই পরীক্ষার সময় পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন।
আইআইটি-বোম্বের দাবি, এরপর সাহিল ওয়াকোডকে কাউন্সেলিং বা পরামর্শ দেওয়া হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

আইআইটি-বোম্বের বড় পদক্ষেপ
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পেশ করা ১৮ দফা দাবিতে আইআইটি-বোম্বের পরিচালক অধ্যাপক শিরীষ কেদারে স্বাক্ষর করার পরই ডুল্লাকে ডিন পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা তিন দিন ধরে আন্দোলন করেছিল। তাদের দাবির মধ্যে ছিল ওয়াকোডের মৃত্যুর ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক ও শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সংস্কার আনা। তার মধ্যে প্রথমেই ছিল ডুল্লাকে বরখাস্ত করা।
যে পরীক্ষায় ওয়াকোডের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটি-র মাধ্যমে উত্তর খোঁজার অভিযোগ উঠেছিল, সেই পরীক্ষায় ডুল্লা পরিদর্শক ছিলেন। তবে ওয়াকোডের বাবা-মা হয়রানি ও জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন এবং তাঁদের ছেলের মৃত্যুর জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দায়ী করেছেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা এফআইআরে ডুল্লার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে।

দুঃখপ্রকাশ ও স্পষ্টীকরণ
পরিচালকের স্বাক্ষরিত ১৮-দফা সনদে কেবল ডুল্লাকে বরখাস্ত করার দাবিই নয়, বরং আরও অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্ত, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং ওই শিক্ষার্থীর যে প্রকাশ্য মানহানি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছে, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে।
ওয়াকোডের মৃত্যুর ঘটনায় আগে দেওয়া একটি বিবৃতির জন্যও আইআইটি-বোম্বে ক্ষমা চেয়েছে। পাশাপাশি তারা স্পষ্ট করেছে যে, পরিচালক অধ্যাপক শিরীষ কেদারে পদত্যাগ করেননি এবং তিনি তাঁর পদে বহাল থাকবেন।