পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পার্টি অফিসকে কেন্দ্র করে মুকুন্দপুরে ধুন্ধুমার। কালিঘাট তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ। দুই পক্ষের তরফ থেকেই ওঠে “চোর” স্লোগান। প্রবল ডিমবৃষ্টি। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে নামতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। রাতেও এলাকায় পুলিশ পিকেট।

মূলত পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষ জড়ায়। মুকুন্দপুরের ওই পার্টি অফিসের সামনে হাজির হয়েছিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মীরা। সেই মিছিলে হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। পালটা হামলার অভিযোগ তোলে বিজেপিও। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি । তৃণমূলের মিছিল লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইট, ডিম। দুপক্ষের স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ধস্তাধস্তিতে জখম হন বেশ কয়েকজন।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কালীঘাট তৃণমূল ছাত্র নেত্রী উপাসনা চৌধুরি। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের মিছিলে হামলা চালায় বিজেপি কর্মীরা। দলের মহিলা কর্মীদের রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁদের উপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ কালীঘাট তৃণমূলের।
যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের পালটা অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় দলের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে তৃণমূল কর্মীরা। তৃণমূলের কর্মসূচির ভিডিওগ্রাফি করছিলেন দলের এক কর্মী। সেই ভিডিও করাকে কেন্দ্র করেই গন্ডগোল। এর পরেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তবে রাতেও এলাকায় ছিল পুলিশ পিকেট। গন্ডগোলের ঘটনা ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুকুন্দপুরের মিছিলে হামলার ঘটনায় আক্রান্ত মমতা তৃণমূলের নেতা হুমায়ুন কবীর, উপাসনা চৌধুরী, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। উপাসনা চৌধুরীর বাড়ি ও গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ।
দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনও সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন। পরিস্থিতি দেখতে তৃণমূলের তরফে নেতা-নেত্রীরা পূর্ব যাদবপুর থানায় পৌঁছলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় থানার ভেতরে প্রবেশ করতেই বাইরে মারমুখী জমায়েত গড়ে তোলে বিজেপির কর্মীরা। সেই সময় থানায় ঢুকতে গেলে গেটের মুখেই প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। মুখে গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন তিনি।