১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি দুই কমিশনারের, নির্বাচন কমিশনেই মতভেদ

29

নিউজ ডেস্ক: গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার। অন্ধকারে রাখা থেকে শুরু করে নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত করা বা নাম বাদ দেওয়া, এরকম নানা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কর্মসূচি, যা মূলত ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবেই শুরু হয়েছিল, তার মাধ্যমে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনকে এক তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
ইংরেজি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে প্রকাশ যে, এই পুরো সময়জুড়ে খোদ তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই এসব বিষয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। আর এই প্রশ্ন তুলেছিলেন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে দুজন— সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী।
যদিও এসআইআর কমিশনের তিন সদস্যের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হয়েছে, তবু সান্ধু ও জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার, যার মধ্যে একদিনেই চারবার, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা তাঁদের অগোচরেই নেওয়া বা জারি করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ
এসব আপত্তি নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব ও এক্তিয়ারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যেমন নতুন ভোটার নিবন্ধন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন এবং খোদ সম্পূর্ণ ভোটার তালিকার হেফাজত ও নিরাপত্তা। এসব বিষয়ে উত্থাপিত সব আপত্তির অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছেও পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু অভিযোগ তাঁদের তত্ত্বাবধানে থাকা ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারদের কাছেও পাঠানো হয়।
এমনই একটি লিখিত অভিযোগে সান্ধু অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন দুজন কমিশনারের লিখিত পরামর্শ উপেক্ষা করে কাজ করেছে এবং তিনি কমিশনের এই পদক্ষেপকে অননুমোদিত ও বেআইনি বলে অভিহিত করেন। অতি সম্প্রতি, প্রথাগত রীতির বাইরে গিয়ে জোশী ও সান্ধু পৃথকভাবে ক্যাবিনেট সচিবের কাছে কাজের বণ্টনে পরিবর্তনের বিষয়ে অভিযোগ জানান। এই পরিবর্তনের ফলে ভোটার তালিকার আইটি কাঠামোর ওপর তদারকির একটি স্তর কার্যত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তাঁদের অগোচরেই এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছিল এবং তাঁরা তা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেন।
এর ঠিক পরেই, ৯ সেপ্টেম্বর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বৈঠকে বসেন, চার মাসের মধ্যে এটিই ছিল তাঁদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক।

বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এই তিনজনকেই এনডিএ সরকার বিশেষভাবে বাছাই করেছিল এবং প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে গঠিত একটি নির্বাচন প্যানেলের মাধ্যমে ২০২৩ সালের আইনের অধীনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে যখন সান্ধু ও জ্ঞানেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করা হয়, তখন বিরোধী দলের সদস্য কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে তাঁর ভিন্নমত বা আপত্তি জানিয়েছিলেন। একইভাবে, জ্ঞানেশ কুমারকে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে উন্নীত করা হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জোশীকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখনও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আপত্তি জানিয়েছিলেন।

‘নতুন ভোটার’ কারা এবং কেন ‘ফর্ম-৬’ পরিবর্তন করা হয়েছিল?


চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রথম জানা যায় যে, ভোটার হওয়ার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের পূরণযোগ্য একটি ফর্মে এমন একটি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে যা আগে কখনো ছিল না। আবেদনের সঙ্গে এসআইআর-এর সংযোগ ঘটিয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছিল যে, নতুন ভোটার কিংবা তাঁর বাবা-মা বা ঠাকুর্দা-ঠাকুমা/দাদু-দিদা ‘গত এসআইআর-এর ভোটার তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত আছেন কি না। এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আবেদনকারীরা পরবর্তী ধাপে এগোতে পারছিলেন না। অথচ এর আগেই মে মাসে জোশী নথিপত্রে সতর্ক করেছিলেন যে, সরকার কর্তৃক বিধিমালা সংশোধন না করে এভাবে ‘ফর্ম-৬’ পরিবর্তন করা যায় না; এবং সান্ধু তাতে সম্মতও হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও এই পরিবর্তনটি করা হয়েছিল।
১৩ আগস্ট সান্ধু জানান যে এটি ছিল ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ এবং তা ‘অবিলম্বে অপসারণ করা প্রয়োজন’। কিন্তু এখনও এই প্রশ্ন বা আপত্তির নিরসন হয়নি।

ভোটার তালিকার ওপর কাদের নিয়ন্ত্রণ বা প্রবেশাধিকার থাকা উচিত?


ভোটার তালিকায় কারচুপির বিষয়ে ওঠা যেকোনো রাজনৈতিক অভিযোগের জবাবে কমিশনের প্রধান যুক্তি বা প্রতিরক্ষা ছিল যে, এই তালিকা তৈরির প্রক্রিয়াটি বিকেন্দ্রীকৃত। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও নিয়ন্ত্রণ করেন সংশ্লিষ্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও। সাধারণত, মহকুমাশাসক ইআরওরE দায়িত্ব পালন করেন। এই তালিকাটি ‘ERONet’ এবং পরবর্তীকালে তার উত্তরসূরি ‘ECINet’ নামক সফটওয়্যারে সংরক্ষিত থাকে। গত এক বছর ধরে, দুই নির্বাচন কমিশনার বারবার প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই তালিকার ওপর ইআরও-দের প্রবেশাধিকার বা নিয়ন্ত্রণ কি এখন সীমিত করা হচ্ছে?
এবছরের মে মাসে জোশী এই বিষয়টিকেই— যখন বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া জোরদার হচ্ছিল— ভোটার তালিকা ডেটাবেসের ক্রম-কেন্দ্রিকতা হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করেছিলেন। তিনি একটি নিরীক্ষা বা অডিটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন যাতে নিশ্চিত করা যায় যে, সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারও (ভোটার) ডেটাবেসে কোনো পরিবর্তন করার মতো কোনও অনুমোদন বা অধিকার নেই।
আগস্ট মাসে সান্ধুও একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ‘ERONet’ পোর্টালে (যে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা ভোটার তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ করেন) তাদের যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার নেই। তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগের মহাপরিচালক সীমা খান্নার আইন অনুযায়ী বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে প্রদত্ত যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার এবং কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।
ওই দুই নির্বাচন কমিশনারের মতে, নির্বাচন কমিশন দশকের পর দশক ধরে যে যুক্তির ওপর ভিত্তি করে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করে এসেছে, সেই ব্যবস্থাই এখন কমিশনের নিজস্ব আইটি বিভাগের ভেতর থেকে ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ: আপিল করার অনুমোদন কে দিয়েছিলেন?


পশ্চিমবঙ্গেই এসআইআরকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। যে ২৯৪টি আসনে ভোট হয়েছিল, তার মধ্যে ৪৯টি আসনে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল সংশ্লিষ্ট আসনে জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। তবে এসব আসনের ফলাফল প্রায় সমানভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছিল, বিজেপি জিতেছিল ২৬টিতে এবং তৃণমূল কংগ্রেস ২১টিতে। কিন্তু যেভাবে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্টকে পদক্ষেপ করতে বাধ্য করে। আদালত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ ধাপটি কমিশনের হাত থেকে সরিয়ে নেয় এবং যৌক্তিক অসঙ্ংগতির কারণে চিহ্নিত ৬০ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করে। এর মধ্যে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম পরবর্তীতে কমিশন তালিকা থেকে বাদ দেয়। এরপর আদালত অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারকদের নিয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনালকে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলোর শুনানি করার নির্দেশ দেয়।
গত সপ্তাহে কমিশন আদালতকে জানায় যে, ট্রাইব্যুনালগুলোতে ৩৮ লক্ষ আপিল বিচারাধীন রয়েছে: এর মধ্যে ২২.২১ লক্ষ আপিল করেছিলেন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা, যারা পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চেয়েছিলেন। বাকি ১৬.১০ লক্ষ আপিল করা হয়েছিল সেই ভোটারদের বিরুদ্ধে যাদের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; এই আপিলগুলোর মাধ্যমে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। কারা এই আপিলগুলো দায়ের করেছিল, কমিশন তা উল্লেখ করেনি। ঠিক এই বিষয়টিই সামনে এনেছিলেন সান্ধু। অর্থাৎ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা ভোটারদের বিরুদ্ধে কমিশনের আপিল করার বিষয়টি।
আগস্ট মাসে তিনি কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের হয়ে এই আপিলগুলো দায়ের করার অনুমোদন কাকে দেওয়া হয়েছিল এবং কে সেই অনুমোদন দিয়েছিলেন? এবং কমিশনের হয়ে বাস্তবে কারা এই আপিলগুলো দায়ের করেছিলেন? তিনি উল্লেখ করেন যে, আপিল দায়েরের ভিত্তি বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁকে, জোশীকে কিংবা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক— কাউকেই অবহিত করা হয়নি।

গোয়া: সফটওয়্যার কেন যোগ্য ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিল?


জোশী এবং সান্ধু বারবার যে কেন্দ্রীকরণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, তার ফলেই শেষ পর্যন্ত গোয়ায় সম্ভাব্য ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন। ২৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, এসআইআর-এর সময় যেসব ভোটারের তথ্যে যৌক্তিক অসংগতি ধরা পড়েছিল, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে তাদের নথিপত্র জমা দেওয়ার এবং নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। যৌক্তিক অসংগতি বলতে এমন সব গরমিলকে বোঝায় যা সফটওয়্যার শনাক্ত করে যখন কোনও ভোটারকে পুরনো তালিকার কোনো অভিভাবক বা আত্মীয়ের তথ্যের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করা হয়, যেমন নামের অমিল বা বয়সের অসামঞ্জস্যপূর্ণ পার্থক্য।
গোয়ার ইআরওরা এসব বিষয় খতিয়ে দেখেন। জমা দেওয়া নথিপত্র যাচাই করে তাঁরা ৯৭ জন ভোটারকে চূড়ান্ত তালিকার জন্য যোগ্য বলে চিহ্নিত করেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তটি সিস্টেমে বা সফটওয়্যারে নথিভুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
১১ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় সংশ্লিষ্ট রাজ্যের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীকে আটবার চিঠি লেখে (প্রতিবারই আইটি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নাকে অনুলিপি বা সিসি দেওয়া হয়েছিল)। চিঠিতে এমন একটি ‘রোলব্যাক’ বা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুবিধার (অপশন) দাবি জানানো হয়, যার মাধ্যমে নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগে বাদ দেওয়া নামগুলো পুনরায় তালিকায় যুক্ত করতে পারতেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও এই অনুরোধগুলোর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাটি সময়মতো চালু করা হয়নি। ফলে গোয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ওই ৯৭ জন বাদ পড়ে যান। ৯৭ জন ভোটার সংখ্যায় কম মনে হতে পারে, কিন্তু বিষয়টি কেবল এই ৯৭ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, কারণ প্রতিটি বৈধ ভোট যাতে গণ্য হয়, তা নিশ্চিত করাই ভারতের নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

অভ্যন্তরীণ আপত্তি: আইনের বিধান কী


সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে গঠিত নির্বাচন কমিশন একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন দুজন নির্বাচন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন সমমর্যাদাসম্পন্নদের মধ্যে অগ্রগণ্য, এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলি ও কার্যকাল) আইন, ২০২৩-এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে যে, কমিশনের যাবতীয় কার্যক্রম সম্ভব হলে সর্বসম্মতিক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। যদি কোনও বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতামতের ভিন্নতা দেখা দেয়, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই ধারায় কমিশনকে নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ ও কাজের বিভাজন ঠিক করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে তা শুধু সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই করা যাবে।