সিজেপির আন্দোলনের আগে দিল্লি যেন দুর্গ

22

নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের অপসারণের দাবিতে ১০ অক্টোবর যন্তরমন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আর দিল্লি পুলিশের স্ট্র্যাটেজি হল যন্তরমন্তরে পৌঁছনোর আগেই সিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের রুখতে হবে।
গত কয়েকদিন ধরে দিল্লিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। অন্তত ২৩ হাজার জওয়ানকে মোতায়েন করা হচ্ছে দিল্লিতে। বিক্ষোভ ঘিরে বড় সমাবেশের সম্ভাবনা যেন প্রথমেই আটকে দেওয়া যায় সেই ছক কষছে প্রশাসন। যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের আগে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাকে গৃহবন্দি করার পরিকল্পনাও রয়েছে পুলিশের, দাবি সূত্রের।
এদিকে, সিজেপি নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি যে জ্ঞানেশকুমারের ইস্তফার আগে ধর্না থেকে উঠবে না। এর আগে, যন্তরমন্তরে সিজেপির আন্দোলনের জেরে ইস্তফা দিতে হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। ২০ জুলাই সিজেপির সংসদ অভিযানের সময় দিল্লি পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনা হয়েছে সর্বস্তরে। এবার দিল্লি পুলিশ আশা করা যায় অনেক সংযত থাকবে। লাঠি না চালিয়ে কীভাবে জমায়েত করতে না দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করছে পুলিশ।
যন্তরমন্তর সহ দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। যার অর্থ পাঁচজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। বিরোধী সাংসদদেরও যন্তরমন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দিল্লিতে বর্তমানে ২৩ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যার অধিকাংশই সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং আইটিবিপি-র মতো আধাসেনা। তাদের নিয়ে আসা হয়েছে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা, জম্মু কাশ্মীর এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে।
সিজেপির আন্দোলন আটকাতে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লির সীমানা আটকানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। সিজেপির আন্দোলনে মহিলাদের আধিক্যের জেরে বাড়ানো হয়েছে মহিলা পুলিশের সংখ্যা। দিল্লি পুলিশের তরফে বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হস্টেল, মেসের কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে শনিবার যাতে পড়ুয়ারা বের না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে। নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে শনিবার দুপুর দুটোর পর কোনও ট্রেন ঢোকা বা বেরনো বন্ধের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দিল্লির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে লাগানো হয়েছে ব্যারিকেড। সবমিলিয়ে দুর্গে পরিণত হয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি।