নিউজ ডেস্ক: শিল্পপতি ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে ভারতে বিতর্ক তুঙ্গে।
মণিপুরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করেছে, এরকম অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগ খারিজ করেছেন স্পেসএক্স-এর সিইও ইলন মাস্ক। তিনি জানিয়েছেন যে, ভারতে তাঁর কোম্পানির স্যাটেলাইট সিগন্যাল বন্ধ রাখা হয়েছে।
নিজের সমাজমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক বলেছেন, ভারতে স্টারলিংক-এর সিগন্যাল বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই কোনভাবে কেউ এটি ব্যবহার করেছে, এই দাবির কোনও সত্যতা নেই।
২০২৪ সালে মণিপুরে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী যখন স্পেস এক্স নামাঙ্কিত স্যাটেলাইট ডিশ ও রাউটার উদ্ধার করে, তখন স্টারলিংককে ঘিরে পর্যালোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই মাস্ক এব্যাপারে পোস্ট করেছেন।
উদ্ধার হওয়া এই যন্ত্রগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যে অস্থিরতার সময় ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।
২০২৪ সালে মণিপুর পুলিশ জানিয়েছিল যে, স্টারলিংক-এর এই সরঞ্জামগুলো সম্ভবত প্রতিবেশী মায়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, যেখানে এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু রয়েছে।
একটি ব্রিটিশ দৈনিক দাবি করেছে, মণিপুরের পিপলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় মণিপুরে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য স্টারলিংক-এর যন্ত্র ব্যবহার করেছিল। মায়ানমার সীমান্তের কাছে কিছু এলাকায় এই যন্ত্রগুলো কার্যকর ছিল।
মণিপুরে নিরাপত্তা অভিযানের সময় স্টারলিংক-এর সরঞ্জাম উদ্ধারের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাস্ক এই দাবি খারিজ করেছিলেন।
ভারতে স্টারলিংকের পরিষেবা শুরুর বিলম্ব নিয়ে বিতর্কের জেরে বিষয়টি ফের সামনে এসেছে। মাস্ক সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার স্বার্থে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্পেস এক্স সংস্থার প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। যদিও ভারত সরকার মাস্কের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছে।
বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে মাস্ক লেখেন, আম্বানি কি ভারতের আসল মালিক? সেই পোস্ট শেয়ার করে রাহুল গান্ধী লেখেন, ভারতে স্বাগত ইলন। অন্যজনকে আবিষ্কার না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। নাম না-করলেও অন্যজনকে বলতে গৌতম আদানির কথা বলতে চেয়েছেন রাহুল, এরকমই সবার ধারণা।
মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতে ব্যবসার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটা এখনও সম্ভব হয়নি। ইলন মাস্ককে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দেয়নি ভারত সরকার।
Prev Post
Next Post