বন্ধ হচ্ছে কোহিনুর থিয়েটার!

24

নিউজ ডেস্ক: অসমের বিখ্যাত ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল কোহিনূর থিয়েটার কি বন্ধ হচ্ছে? এই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে কোহিনূর থিয়েটারের পরিচালক তপন লহকরের সমাজমাধ্যমে পোস্টের পর। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন কোহিনূর থিয়েটার বন্ধ হতে পারে। পাঁচ দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর অসমের অন্যতম প্রধান এই ভ্রাম্যমাণ নাট্যদলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত এক বছরে এই নাট্যদলের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে লহকার লিখেছেন, অনেক কথাই আছে… কিন্তু আর কোহিনূর থিয়েটার নয়— যার মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে দলটি হয়তো তাদের ক্রিয়াকলাপ গুটিয়ে ফেলার পথে। তবে, সম্ভাব্য এই বন্ধের কারণ বা এবিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে ওই পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
১৯৭৬ সালে প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্ব রতন লহকর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘কোহিনূর থিয়েটার’ । অসমের ভ্রাম্যমাণ নাট্যধারার এক অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে কোহিনূর থিয়েটার। বজালি অঞ্চলের পাঠশালায় গড়ে ওঠা এই দলটি তাদের বিশাল আয়োজনের নাটক, জমকালো মঞ্চসজ্জা এবং দর্শকদের জন্য জনপ্রিয় সব গল্পকে অভিনব কৌশলে মঞ্চরূপ দেওয়ার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিল। ২০১৭ সালে রতন লহকরের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে তপন লহকর এই নাট্যদলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গল্প ও চলচ্চিত্রের অনুপ্রেরণায় নির্মিত বড় পরিসরের নাটক মঞ্চস্থ করার জন্য কোহিনূর থিয়েটার পরিচিতি লাভ করে। ভ্রাম্যমাণ থিয়েটারের মঞ্চে চলচ্চিত্রের কাহিনিকে সফলভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাদের ‘টাইটানিক’ ও ‘জুরাসিক পার্ক’-এর মতো প্রযোজনা উল্লেখযোগ্য।
কোহিনূর থিয়েটার অসমের সীমানা ছাড়িয়ে রাজ্যের নাট্য ঐতিহ্যকে বাইরের দর্শকদের কাছেও তুলে ধরেছে। ২০১০ সালে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার আমন্ত্রণে তারা নয়াদিল্লিতে নাটক মঞ্চস্থ করে।
ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল অসমের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায় এবং অস্থায়ী মঞ্চে নাটক পরিবেশন করে। অভিনয়, জমকালো মঞ্চসজ্জা, সংগীত ও কারিগরি কৌশলের সমন্বয়ে তারা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। এই নাট্যরীতি অসমের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোহিনূর থিয়েটার যদি নাটক বন্ধ করে দেয়, তবে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে, কেননা পাঁচ দশক আগে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অসমের ভ্রাম্যমাণ নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এই নাট্যদল।