নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় বেশ কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। ২৩ অক্টোবর বাঁধ-বিরোধী বিক্ষোভে চার মহিলা আহত হন। গাড়ি পোড়ে পুলিশের। থানা ভাঙচুর হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে চার বিক্ষোভকারীদের বাসভবনে তল্লাশির জন্য অনুমতি চেয়েছে অরুণাচল পুলিশ। এই চারজনের মধ্যে একজন আইনজীবী ও একজন সাংবাদিক রয়েছেন।
পূর্ব সিয়াং পুলিশ জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তল্লাশি পরোয়ানা চেয়েছে। এই পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে সমাজকর্মী অতুল জেরং (৩০) ও তাজং তালম (৩০), আইনজীবী সানি তায়েং এবং সাংবাদিক টঙ্গাম রিনার বাসস্থানে তল্লাশি চালানোর জন্য।
২৩ ও ২৪ অক্টোবর পাসিঘাটে বিক্ষোভের জেরে গন্ডগোল ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রস্তাবিত বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ একপর্যায়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় রূপ নেয়।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলা চালায়, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং একটি থানা ও ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন কার্যালয়ে আগুন লাগায়। এছা ড়া, রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও সাবেক বিধায়ক কালিং ময়ং এবং পাসিঘাট পশ্চিমের বিধায়ক নিনং এরিংয়ের বাসভবন, পাশাপাশি ‘আদি বানে কেবাং’-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়।
পুলিশ আটটি মামলা দায়ের করে এবং পাঁচজন কিশোরসহ মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ১১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ‘সাম্প’ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিরোধিতার জেরে এই গন্ডগোলের ঘটনা ঘটে। আদিবাসী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা তাদের জমি, জীবিকা এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
বিক্ষোভকারীরা প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা বন্ধ করা, আটক কর্মীদের মুক্তি দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে নিরাপত্তা কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জল নিরাপত্তা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো সম্ভাব্য সুফলগুলোর দিক থেকে প্রকল্পটিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।