নিউজ ডেস্ক: কানাডার সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্সের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার বিক্রির বিরোধিতাকারী আইডিবিআই ব্যাংকের কর্মীদের সমর্থন করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর খোলা চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং কর্মী, আমানতকারী ও সংরক্ষণ নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
কানাডা-ভিত্তিক ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংসের কাছে আইডিবিআইয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার বিক্রির কেন্দ্রের প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী আইডিবিআই কর্মীদের সমর্থন করেছেন রাহুল গান্ধী এবং করদাতাদের টাকায় গড়া একটি লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেওয়ার জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন।
ব্যাংকের কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে গান্ধী আইডিবিআই ব্যাংককে বেসরকারীকরণের পেছনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই প্রস্তাবিত লেনদেনের ফলে কর্মী, আমানতকারী ও সংরক্ষণ নীতির ওপর যে প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিজনেস ওয়ার্ল্ডের একটি অনুসন্ধানে এই বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, আইডিবিআই সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি মালিকানাধীন হয়ে গেলে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাঁদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে।
গত ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কানাডা-ভিত্তিক বিনিয়োগকারী সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংসের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ার প্রায় ৫২,৮৭৮ কোটি টাকায় বিক্রি করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতীয় জীবন বিমা নিগম (এলআইসি) উভয়েই তাদের একাংশ শেয়ার বিক্রি করবে। বিক্রির পর সরকারের হাতে থাকবে আইডিবিআই-এর প্রায় ১৫ শতাংশ এবং এলআইসি-র হাতে থাকবে প্রায় ১৯ শতাংশ শেয়ার।
গত বছরের মার্চ মাসে সংসদ ভবনে আইডিবিআই ব্যাংকের কর্মীদের বৈঠকের কথা স্মরণ করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, কর্মীরা তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন যে ব্যাংককে লাভজনক করে তুলতে তাঁরা নিজেরাই ভূমিকা রেখেছেন, সরকার কেন সেই ব্যাংকটি বিক্রি করে দিচ্ছে?
তিনি লেখেন, আমি এই প্রশ্নটি লোকসভায় তুলেছিলাম। আমি জানতে চেয়েছিলাম, একটি লাভজনক সরকারি ব্যাংক কেন বিক্রি করা হচ্ছে এবং এর কর্মী ও আমানতকারীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে? সরকার এর কোনও কারণ জানায়নি। এখন তারা আইডিবিআই ব্যাংকটিকে কানাডিয়ান কোম্পানি ‘ফেয়ারফ্যাক্স’-এর কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাহুল বলেছেন, জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জনগণই… ২০০৩ সালে সরকার সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা সবসময় আইডিবিআই-এর অন্তত ৫১ শতাংশ মালিকানা নিজেদের কাছে রাখবে।
১৪ অক্টোবর, অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রীসভা কমিটি আইডিবিআই ব্যাংকে সরকারের ৬০.৭২ শতাংশ অংশীদারিত্ব ফেয়ারফ্যাক্সের কাছে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
এই প্রস্তাবিত লেনদেনের মধ্যে রয়েছে আইডিবিআই ব্যাংকে কেন্দ্রীয় সরকারের ৩০.৪৮ শতাংশ ইকুইটি এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC)-এর ৩০.২৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রতিবাদে ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ আন্দোলনে নেমেছে। বেসরকারীকরণের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে আগামী ২ এবং ৩ নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘট ও অনশনের ডাক দিয়েছে ইউএফআইওই। এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, গত বছর ৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে আইডিবিআই। আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরেও সরকার কেন অংশীদারি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিল সে প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।