পৃথা দাশগুপ্ত: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ তাঁকে তাঁকে আদালতে তোলা হলে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় ব্যাঙ্কশাল আদালত। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য ১২ দিনের আবেদন জানানো হলে বিচারক ১০ নভেম্বর পর্যন্ত হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায়, ২০২১-২২ সালে ‘মাস আর্ট’-এর মাধ্যমে টাকা লেনদেনের তদন্ত করতে চান তাঁরা। অভিযোগ, ওই সংস্থা থেকে আসা টাকা জমা পড়ে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর মধুছন্দা সেনের অ্যাকাউন্টে। এই আর্থিক লেনদেনের পিছনে সরাসরি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের যোগ রয়েছে কিনা তা তারা দেখতে চান।
সরকারি আইনজীবীর দাবি, যে ২৪টি পুজো বাছাইকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক, তার সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও যোগ নেই। ২০২৫ সালে এই চুক্তি হলেও দেখা যায় ২০২২ সালেই টাকা লেনদেন হয়। অভিযোগ, টাকা দিয়েও অনেকে পুজোর পাস পাননি। এই পরিস্থিতিতে ইন্দ্রনীল সেন জামিন পেলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী আদালতে জানান, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ও ইডিকে তিনি সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।
‘মাস আর্ট’ বা ‘থার্ড আই’ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ওই সংস্থার বিভিন্ন পদে তাঁর স্ত্রী-সহ অন্যরা থাকলেও তিনি নিজে সংস্থার কোনো সদস্য, প্রেসিডেন্ট কিংবা ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট নন। পুজো পাস নিয়ে তাঁর বক্তব্য, দর্শনার্থীদের টিকিটের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা একটি এজেন্সি দেখত। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন । তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ নেই। পাশাপাশিওই তিনটি সংস্থার সঙ্গেই তাঁর কোনও যোগ নেই, দাবি তাঁর।
তিনি আরো জানান, শীর্ষ আদালতের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত মামলা থেকে ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ান। আপাতত শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির কাছে নতুন বেঞ্চ নির্ধারণের জন্য বিচারাধীন রয়েছে এই মামলা। তাহলে এই অবস্থায় তাঁকে গ্রেফতার কেন? সওয়াল জবাব শোনার পর ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাক্তন মন্ত্রীকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।