সিয়াং বাঁধে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চাইলেন সোনম ওয়াংচুক

25

নিউজ ডেস্ক: লাদাখের উদ্ভাবক, পরিবেশবিদ, সমাজ-জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এনিয়ে তিনি একটি চিঠি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতিকে। অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত ১১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট-কে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা বাড়ছে, সেবিষয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। চিঠিতে তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মোকাবিলার ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে ওয়াংচুক সিয়াং উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, প্রস্তাবিত এই বিশাল বাঁধের বিরোধিতাকারী গ্রামবাসীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং ওই অঞ্চলে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি তরুণ আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার, চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। প্রকল্পের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদরত আদিবাসীদের ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আদি সম্প্রদায়ের জীবনে সিয়াং নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে ওয়াংচুক বলেন, এই নদীটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি, ঐতিহ্য ও জীবিকার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। লাদাখের মানুষের সঙ্গে তাদের হিমবাহ ও নদীগুলোর সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি আদিপুরুষদের ভূমি এবং হিমালয়ের পারিবেশিকভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চলের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
লাদাখে পরিবেশ আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ওয়াংচুক আদিবাসী সম্প্রদায় এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর অধিকার রক্ষার জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এধরনের এলাকায় বড় পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা গণতান্ত্রিক আলোচনা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যেন প্রস্তাবিত প্রকল্পটির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিবেচনা জরুরি, কারণ দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের আস্থা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
অরুণাচল প্রদেশের আদি সম্প্রদায় প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট-এর ক্রমাগত বিরোধিতা করছে। যারা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছে, তারা বাস্তুচ্যুতি, পরিবেশের অবক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং পৈতৃক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
১১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রস্তাবিত প্রকল্পটি কৌশলগত গুরুত্বও অর্জন করেছে। এর কারণ, তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উজানে চিনের বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, এই নদীটিই ভারতে প্রবেশ করে ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত এবং পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়েছে।f