জমি-দখল মামলায় আপাতত স্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়

44

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: জমি-দখল মামলায় আপাতত স্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। আজ তাঁকে রক্ষাকবচ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের নির্দেশ, পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত সুমিত রায়কে গ্রেফতার করা যাবে না। আগামী সপ্তাহে ফের এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা সুমিত রায়কে জমি-দখল মামলার তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টেরসকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুমিতরায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে পুলিশ।

জমি-দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সুমিত রায়। যে কোনও মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন, এই আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।‌

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল এবং বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পি এ-র বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তাঁর খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু সুমিত রায় বেপাত্তা ।‌ তাঁর ফোন ট্র্যাক করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়িতে গিয়েও তদন্তকারীরা তাঁর খোঁজ পাননি। এমনকি মঙ্গলবার রাতে তাঁর নিউটনের ফ্ল্যাটে গিয়েও সুমিতের কোন খোঁজ পাননি তদন্তকারীরা। বরং ‌তাঁর মা – ও জানেন না সুমিত কোথায়।

গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করে আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত রায়। হাইকোর্ট তাঁর আর্জি খারিজ করে দেওয়ার পর এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক।

হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করেছিলেন সুমিত রায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তাঁরা চেয়েছিলেন বেঞ্চ বদলে শুনানি হোক। যদিও সেই আবেদন আগেই খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, সুমিত রায় আগাম জামিনের আবেদন শুনবে নিয়মিত বেঞ্চ। সেই মত বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুনানি হয়। সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি ঘোষ সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।

শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হলেও চাকরি-দুর্নীতির একটি মামলায় শর্তসাপেক্ষে সুমিতের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থার অফিসারের কাছে হাজিরা দিতে হবে সুমিতকে। পরে যদি তদন্তকারীরা আবার ডাকেন, তবে তখনও হাজিরা দিতে হবে। সুমিতের আশঙ্কা, এই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে জমি-দুর্নীতি মামলার সূত্রে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

এই আশঙ্কা থেকেই হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত রায়। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানানো হয়।