অভিষেকের আমতলার কার্যালয় এখন ভাঙা যাবে না, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

25

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয় এই মুহূর্তে ভাঙা যাবে না।‌ নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনেরাল সুরজিৎ মিত্র আজ হাইকোর্টে বলেন, পাঁচতলা ওই ভবনের মামলাকারীর অংশ ভাঙাই হয়নি। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে যে অংশটি ভাঙা হয়েছে, তা মামলাকারীই নয়। তবে হাইকোর্ট অভিষেকের ওই কার্যালয় ভাঙা নিয়ে আগামী ৬ অগস্ট পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কিশোর দত্ত আজ আদালতে দাবি করেন, ওই কার্যালয় ভাঙা নিয়ে পঞ্চায়েত আইন মানা হয়নি। নূন্যতম নোটিস দেওয়া হয়নি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসকে।

দু’পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আগামী ৬ অগস্ট পর্যন্ত ওই কার্যালয় ভাঙা নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। ৬ আগষ্ট দুপুর দুটোয় শুনানি।

অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে গত ১৮ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয় ভাঙা শুরু করে প্রশাসন। এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। সেই মামলায় আজ রাজ্যের এজি বলেন, মামলাকারী জানিয়েছেন যে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস ৫০৯ এবং ৫১২ দাগ নম্বরের মালিক। কিন্তু, ওই অংশ ভাঙা হয়নি। এজি দাবি করেন, যে অংশ ভাঙা হয়েছে, তা ৫০৭ দাগ নম্বরের। মামলাকারীর দাগ নম্বরের অংশ ভাঙা হয়নি। ওই কার্যালয় ভাঙা নিয়ে নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রত্যাহারের আর্জি জানান।

সুশান্ত মণ্ডল নামে জনৈক এক ব্যক্তি নির্মাণ নকশা ছাড়া এই পাঁচতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। রাজ্যে পালাবদলের পর জেলা পরিষদে ফের সুশান্ত মণ্ডলের অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করে নোটিস পাঠানো শুরু করেন জেলা পরিষদ।

গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের তরফে নোটিস পাঠানো হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যেহেতু তিনি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর ।‌ গত ১৫ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট দুপুর ২টোর সময় হাজির হতে বলেছিল অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত সব পক্ষকেই।

কিন্তু নোটিস পেয়েও নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দেননি অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই ফের জেলা পরিষদের তরফে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দিয়ে জানানো হয়, আমতলার এই সুবিশাল কার্যালয় ভেঙে ফেলা হবে। সেই মতো গত ১৮ জুলাই সকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই কার্যালয় ভাঙার কাজ শুরু হয়। তার বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।