মধুপুর সত্র রক্ষায় অসম-বাংলার যৌথ কাজ করা দরকার: হিমন্ত

21

নিউজ ডেস্ক: কোচবিহারের ঐতিহাসিক মধুপুর সত্র রক্ষায় অসম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একত্রে কাজ করা দরকার বলে মন্তব্য করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কোচবিহারের মধুপুর সত্রেই শ্রীমন্ত শংকরদেবের জীবনাবাসন হয়েছিল।
জুবিন দিবস উপলক্ষে গুয়াহাটিতে একটি রক্তদান শিবিরে অংশ নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বলেন, মধুপুর সত্রের জমি আরও বাড়ানোর জন্য আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করব। তাহলেই মধুপুর সত্র ঘিরে একটা বড় প্রকল্প তৈরি করা যাবে। অতিরিক্ত জমি না পেলেও আমরা মধুপুর সত্রের উন্নয়ন ঘটাব।
এপ্রসঙ্গে হিমন্ত বলেন, শ্রীমন্ত শংকরদেবের জন্মস্থান বটদ্রবা থানের উন্নয়ন করেছে অসম সরকার। মধুপুর সত্রের ক্ষেত্রেও একইভাবে কাজ হবে। মূল লক্ষ্য হল, মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেবের ঐতিহ্য রক্ষা করা।
মধুপুর সত্র অসমিয়া বিশেষত বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থভূমি। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গর কোচবিহার জেলার মধুপুর-এ অবস্থিত এই স্থানে মহাপুরুষ শঙ্করদেব ও মাধবদেব দেহত্যাগ করেছিলেন এ ছাড়া এখানে অন্য অনেক ভক্তের সমাধি আছে। জীবনের অন্তিম সময়ে শঙ্করদেব এখানে থেকে ধর্মচর্চা করার পাশাপাশি বহু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কীর্তিও রচনা করেছিলেন। মধুপুর সত্রকে দশমুকুত থানও বলা হয়। দশমুকুত (মুকুত = মুক্ত) মানে হল শঙ্করদেবের দশজন শিষ্যের এখানে থাকা ভিটে।
মধুপুরের আগের নাম ছিল চন্দনচৌরা | মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব প্রায় ৯৭ বছর বয়সে প্রধান শিষ্য মাধবদেব, নারায়ণ ঠাকুর, রামরামগুরু, রামরায় সহ প্রায় শতাধিক ভক্ত নিয়ে দ্বিতীয়বার পুরীর উদ্দেশে তীর্থযাত্রা করেন। আনুমানিক ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে গুরু শঙ্করদেব পুরীর জগন্নাথ ক্ষেত্র থেকে ফেরার পথে বর্তমান কোচবিহার শহরের পশ্চিম দিকে প্রায় ৭ কিঃ মিঃ অভ্যন্তরে একটি বড় গাছের তলায় ভক্তদের ভাগবত থেকে বৃন্দাবন-এর শ্রীকৃষ্ণের লীলার কথা ব্যাখ্যা করছিলেন। এই সময়ে একজন গুরু গাছে ঝুলতে থাকা মৌচাক থেকে সঞ্চিত মধু আহরণ করে তাদের খাইয়ে তপ্ত করেন। এই ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে মহাপুরুষ শঙ্করদেব এই স্থানের নাম “মধুপুর থান” রাখেন। শঙ্করদেব ১৪৯০ শকের (১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দ) ভাদ্র মাসের ২১ তারিখে শুক্লা দ্বিতীয়া তিথি, বৃহস্পতিবারে দিনের দেড় প্রহরের সময় মধুপুরে নশ্বরদেহ ত্যাগ করে বৈকুণ্ঠগামী হন। পরে তার ভক্ত কোচবিহারের মহারাজ নরনারায়ণ শঙ্করদেবকে ঈশ্বর জ্ঞান করে সত্রের নামে দুশ বিঘা জমি ব্রহ্মোত্তর হিসাবে প্রদান করেন।