নিউজ ডেস্ক: পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে, অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে অসম মন্ত্রিসভা ৭৫টি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল মোদীর ২৫ বছরের জনসেবার প্রতি নিবেদিত।
বৈঠক শেষে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে, পাশাপাশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুযোগের পরিধি বাড়িয়েছে এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দরজা উন্মোচন করেছে বিনিয়োগ।
তিনি বলেন, অসমে শান্তি উন্নয়নের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে, শিল্প ও বিনিয়োগ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা মানুষের সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোদীর জনজীবনে সক্রিয় থাকার সময়কালে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর অসমে যে পরিবর্তন ও উন্নয়ন হয়েছে, মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকৃতি দিয়েছে।
হিমন্তর মতে, এই রূপান্তর শুধু আর্থিক বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আওতায় সামাজিক উন্নয়ন, পরিকাঠামো, কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে।
হিমন্ত বলেন, একসময় অসমকে মূলত একটি দূরবর্তী সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে দেখা হত, কিন্তু এখন তা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আত্মবিশ্বাসের সুবাদে একটি শান্তিপূর্ণ এবং বিনিয়োগ-বান্ধব রাজ্য হিসেবে ক্রমশ উঠে আসছে।
বেশকিছু পরিকাঠামো ও শিল্প প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এর মধ্যে রয়েছে জাগিরোডে ২৭,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং কেন্দ্র স্থাপন, নুমলিগড় শোধনাগারের ২৮,০০০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং ১৮,৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত গহপুর-নুমলিগড় টুইন-টিউব সড়ক টানেল। এ ছাড়া গুয়াহাটি রিং রোড প্রকল্প, কাজিরঙা এলিভেটেড করিডোর এবং শিলচর-সৌরাষ্ট্র হাই-স্পিড করিডোরকেও যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিল্পখাতের ক্ষেত্রে, মন্ত্রিসভা নামরূপ-৪ অ্যামোনিয়া-ইউরিয়া কমপ্লেক্স, নুমলিগড়ে বাঁশ-ভিত্তিক দ্বিতীয় প্রজন্মের বায়োইথানল প্ল্যান্ট এবং ৭১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বারৌনি-গুয়াহাটি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের কথা উল্লেখ করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ ছাড়া গৃহীত প্রস্তাবে ‘অ্যাডভান্টেজ আসাম ২.০’ শিল্প সম্মেলনের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে নরেন্দ্র মোদী ৩৬ বার অসম সফর করেছেন।