পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:আমতলায় কার্যালয় ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদন জানানো হয়। আদালত খোলার পরই সাংসদের আইনজীবী বিষয়টি বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর নজরে আনেন। পরে বিচারপতির এজলাসে ছুটির দিনেই মামলার শুনানির ব্যবস্থা করা হয়, যা আদালতের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা। এই মামলাতে আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমতলার ওই ভবন ভাঙা যাবে না।
শনিবার আমতলার অফিসে বুলডোজার -কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ছুটির দিনই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। প্রথমে ১২টায় শুনানি শুরুর কথা থাকলেও রাজ্যের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি করা যায়নি। পরে দেড়টা নাগাদ ফের শুনানি শুরু হয় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ভাঙায় আপাতত স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।
আমতলায় অভিষেকের ওই দফতর অবৈধ ভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল — এই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার তার কিছু অংশ ভেঙে দেয় প্রশাসন। ওই দফতরের জমি কেনা হয়েছিল লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নামে।
শুনানিতে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, আমতলায় অভিষেকের দফতরের একাংশ ভাঙার আগে ভবনের মালিককে শুনানির জন্য কোনও নোটিসই দেওয়া হয়নি। যে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে পাঁচতলা ভবনের জমি কেনা হয়েছিল, সেই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টরকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
সরকারি আইনজীবী সওয়াল করে জানান, ওই নির্মাণ বেআইনি। বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের নোটিস কি জানতেন ভবনের জমির মালিক? তার পরেই আমতলার ভবন ভাঙার উপর স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি। আদালত জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে নতুন করে কিছু করা যাবে না।
আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিস বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে পালাবদলের আগেই সুশান্ত মণ্ডল নামে জনৈক এক ব্যক্তি জেলা পরিষদে অভিযোগ করেন। নকশা ছাড়া এই পাঁচতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের তরফে নোটিস পাঠানো হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা তথা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সম্পত্তিও লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে রয়েছে। নোটিস পাঠানো হয় সুশান্ত মণ্ডল এবং মতিউর রহমান মল্লিককেও। ১৫ জুলাই দুপুর ২টোর সময় হাজির হতে বলা হয়েছিল অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত সব পক্ষকেই। কিন্তু, নোটিসের নির্দেশ মেনে হাজিরা দেননি অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এই ভবন ভাঙার কাজ। আপাতত এই ভবন ভাঙার কাজ বন্ধ করা হল।