নিউজ ডেস্ক: মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে উঠে এসেছে তিব্বতে হড়পা বানের ভয়াবহ তথ্য।
তিব্বত-নেপালের সংযোগস্থলে গিরং সীমান্ত রয়েছে অভিবাসন দফতর। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য এখানেই তীর্যযাত্রীদের নথিপত্র পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। আরও দুটি চেকপয়েন্ট থাকলেও গিরং সীমান্তই ব্যবহৃত হয় বেশি কৈলাসযাত্রার জন্য।
নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, প্রথমেই হড়পা বান আছড়ে পড়ে গিরং সীমান্তের অভিবাসন দফতরে, সেই সময় সেখানে ১৩০ জন ছিলেন। এ ছাড়া পঞ্চাশের বেশি ভারতীয় তীর্থযাত্রী ওই সীমান্ত দিয়ে কৈলাসযাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
বুধবার তিব্বতের সময় সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ গিরংয়ের অভিবাসন দফতরে আছড়ে পড়ে হড়পা বান। সেই মুহূর্তের বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। সিসি ক্যামেরাতেও ধরা পড়েছে সেই ছবি। প্রায় চার-পাঁচতলা সমান বিশাল জলরাশি, ওই অভিবাসন দফতরকে ঘিরে ফেলেছিল। কয়েক সেকেন্ডে গোটা বহুতল নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তার পরের ছবিতে ধরা পড়ে, সেখান দিয়ে কাদাজলের স্রোত বইছে। তখন অভিবাসন দফতরের বহুতল তো বটেই কোনও মানুষের আনাগোনাও আর ছিল না ভিডিয়োতে।
এতকিছুর পরও চিন সরকারিভাবে কোনও তথ্য দিতে নারাজ। তাদের পক্ষে বারবার বলা হয়েছে, তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ, এর মধ্যে ২৬০ বিদেশি এবং তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার কোনও তথ্য নেই। বিদেশি তো দূরের কথা, নিজের দেশের সংবাদমাধ্যমকেও গিরং সীমান্তে গিয়ে রিপোর্ট করতে অনুমতি দেয়নি চিন সরকার।
যেসব ভিডিয়োয় হড়পা বানের ধ্বংসলীলা ও তাণ্ডব দেখা যাচ্ছে, দুর্গতদের ত্রাণের জন্য হাহাকার সবই চিনা সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কিছু রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু সেসবও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের তরফে কেবল উদ্ধারকাজ এবং বিভিন্ন জরুরি অভিযানের খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া, চিনের নেতামন্ত্রীরা কে কী বলছেন, কী নির্দেশ দিচ্ছেন, তা প্রচার করছে সরকার। যেমন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, তল্লাশি অভিযানে যেন কোনও খামতি না-থাকে।
নিহতদের সংখ্যা প্রকাশ হলেই চিন পড়বে বিপাকে। গোটা পৃথিবীর কাছে নিজের উন্নত ভাবমূর্তিতে যাতে দাগ না লাগে সেজন্যই কি চিন তথ্য গোপন করছে? প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।