জগন্নাথ মন্দিরে নাম পরিবর্তন করল বিজেপি সরকার

63


নিউজ ডেস্ক: দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দ বাদ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তৃণমূলের সরকারের আমলে দিঘায় নির্মিত এই মন্দিরের নাম ছিল ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার’। সেখান থেকে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন নাম হবে ‘ শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’। তবে স্থাপত্যের মধ্যে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তির পুজো হবে রীতি মেনেই। জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কেন ‘ধাম’ শব্দ বাদ?

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি মঙ্গলবার একটি চিঠি লেখেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। তৃণমূল সরকারের আমলে দিঘার এই জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে ধাম শব্দে আপত্তির বিষয়টি এবং তাৎপর্য উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ আবেদন করেন। পুরীর বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র সেই চিঠি শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেন।

শুভেন্দু অধিকারীকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠি

২০২৫ সালের এপ্রিলে দিঘায় ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার’-এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ধাম শব্দ নিয়ে পুরী সরকার আপত্তি জানায়। তখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সনাতন হিন্দু ধর্ম বিরোধী বলে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন।

এখন পশ্চিমবঙ্গের সরকার বিজেপির। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে চিঠি দিয়ে সম্বিত পাত্র জানান, ‘অনন্তকাল থেকে সনাতন পরম্পরা মেনে চার ধামের একটি জগন্নাথ ধামকেই মানা হয় যা ওড়িশায় অবস্থিত। সাড়ে ৪ কোটি ওড়িশাবাসীর কষ্ট হয়েছিল যখন দিঘায় জগন্নাথ ধাম হিসেবে মন্দিরের স্থাপন হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চিঠি শুভেন্দু অধিকারী গ্রহণ করেছেন আমরা কৃতজ্ঞ।’ সরকারি রেজুলেশন থেকেও ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দেওয়া সহ অফিসিয়াল কাজ আগামী কয়েকদিনেই হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

আসলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল দিঘার এই জগন্নাথ মন্দির। তবে সেই সময়ই বিরোধিতা করেছিল বিজেপি। তাদের দাবি, দু’টো ‘ধাম’ কখনও তৈরি হতে পারে না। জগন্নাথ ‘ধাম’ শুধুমাত্র এক জায়গায়, তা হল ওড়িশায়। যদিও মমতার সরকার সে সময় কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু এবার রাজ্য সরকারের পালাবদল হতেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রত্যাশা মতোই আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তিনি। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মায়াপুরের ইসকনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।