জগন্নাথ ‘ধাম’ বাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের

22

নিউজ ডেস্ক: দীঘা জগন্নাথ ধামের নাম পরিবর্তন করে ‘দীঘা জগন্নাথ মন্দির’ করায় স্বাগত জানালেন রাধারমণ দাস। দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি ও প্রধান পুরোহিত এবং ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাধারমণ দাস বলেন, ‘আমরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীজির এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এই বিষয়টি নিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এবং আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে এখন থেকে এই মন্দির ‘দীঘা জগন্নাথ মন্দির’ নামে পরিচিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনাকে প্রতিফলিত করে। ‘প্রভু জগন্নাথ সমগ্র বিশ্বের, কিন্তু তাঁর চিরন্তন আবাস পবিত্র ওড়িশা ভূমিতে। যদি এই নাম পরিবর্তনের ফলে ওড়িশার মানুষের আনন্দ বৃদ্ধি পায় এবং তাঁদের ভাবাবেগের মর্যাদা রক্ষা হয়, তবে আমরা সত্যিই আনন্দিত। সর্বোপরি, আমরা সবাই এক বৃহৎ সনাতনী পরিবার, যাদের একসূত্রে বেঁধে রেখেছেন প্রভু জগন্নাথের প্রতি ভক্তি।’
এই নাম পরিবর্তনকে মতবিরোধের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং এটি দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি সুযোগ বলে মনে রাধারমণ। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা প্রভু জগন্নাথের মাধ্যমে গভীর সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, যখন ভক্তসমাজ ও সরকার সদিচ্ছা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভক্তিভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তখন সমাধান স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।’তিনি আরও বলেন, প্রভু জগন্নাথের প্রতি ভক্তিকেই কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার জন্য এবং মতপার্থক্যের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ওড়িশা সরকার—উভয়ের প্রতিই কৃতজ্ঞ। প্রকৃত বিজয় কোনও নামের মধ্যে নয়। প্রকৃত বিজয় হলো, লক্ষ লক্ষ ভক্ত প্রভু জগন্নাথের আরও সান্নিধ্যে আসছেন। তাঁরা বাংলা, ওড়িশা কিংবা বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকেই আসুন না কেন, জগন্নাথ সকলকে উন্মুক্ত বাহুতে স্বাগত জানান।’