ত্রিপুরায় বিজেপি নেতার ছেলের বাড়ি থেকে উদ্ধার ড্রাগস!

3

শিবজ্যোতি মল্লিক, তেলিয়ামুড়া: নেশামুক্ত ত্রিপুরার স্লোগানে জোর ধাক্কা! ড্রাগস-কাণ্ডে এবারে গ্রেফতার বিজেপি জেলা সভাপতির ছেলে! এঘটনায় ত্রিপুরার খোয়াই জেলায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়।

রাজ্য সরকারের নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার জোরালো প্রচারের মধ্যে ছন্দপতন। খোয়াই জেলায় বিস্ফোরক ঘটনায় তুমুল আলোড়ন। অভিযোগ, বিজেপির খোয়াই জেলা সভাপতি বিনয় দেববর্মার ছেলে সৈকত দেববর্মার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ড্রাগস।

গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খোয়াইয়ের লালছড়া এলাকায় অভিযানে নেমেছিল সাদা পোশাকের পুলিশ। অভিযোগ, ওই অভিযানে সৈকত দেববর্মার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণ ড্রাগস এবং অন্যান্য মাদক। পুলিশ সৈকত দেববর্মাকে আটক করে সুভাষ পার্ক আউট পোস্টে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে খোয়াই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্ত সৈকত দেববর্মার বিরুদ্ধে মাদক আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

ত্রিপুরায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে রাজ্য সরকার। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিয়মিত চলছে অভিযান। ড্রাগস পাচার প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে রাজ্যে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায়ই উদ্ধার হচ্ছে ড্রাগস। গ্রেফতার হচ্ছে পাচারকারীরা। তারপরও বন্ধ হয়নি মাদকের কারবার। শেষ পর্যন্ত শাসকদলের প্রভাবশালী নেতার পরিবারের নামও জড়িয়ে পড়ল ড্রাগসের সঙ্গে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলে উঠেছে নানা প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের কটাক্ষ, যুব সমাজকে নেশার অন্ধকার থেকে ফেরানোর কথা বলা হলেও, ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকেই কি তবে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে নেশার কারবার?

খোয়াইয়ের লালছড়ার একাংশ বাসিন্দার অভিযোগ, গত কয়েক মাস সাদা পোশাকের পুলিশের তৎপরতা একটু শিথিল হতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মাদকের কারবার। সম্প্রতি পুলিশ ফের শুরু করেছে মাদক বিরোধী অভিযান। তাতেই এবার প্রকাশ্যে এসেছে শাসক দলের নেতার নেতার ছেলের নাম।

ঘটনার পরই খোয়াই জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।