আজও অধরা হিমঘর, মাছমারার কৃষিজীবীরা সঙ্কটে

17

জনি ভট্টাচার্য, কুমারঘাটঃ ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কৃষিপ্রধান অঞ্চল মাছমারায় আজও অধরা হিমঘর প্রকল্প। শিলান্যাসের পর কেটে গেছে প্রায় তিন বছর। অথচ এখনও শুরুই হয়নি নির্মাণের কাজ। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ঊনকোটি জেলার মাছমারায় অধিকাংশ মানুষের জীবন কৃষির উপরে নির্ভরশীল। উৎপাদিত শাক-সবজি বাজারে বিক্রি করেই চলে বহু কৃষক পরিবারের সংসার। কিন্তু বাজারে আনা ফসল বিক্রি না হলে সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাবে দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর দাবি একটি হিমঘরের।
২০২৩ সালে মাছমারা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ৬ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি হিমঘর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল কৃষি দফতর। সে-বছরের ১৭ জানুয়ারি জাঁকজমক করে রাজ্যের তৎকালীন দুই মন্ত্রী ভগবান দাস ও সান্ত্বনা চাকমার উপস্থিতিতে শিলান্যাস হয় প্রকল্পটির। কিন্তু সময় গড়িয়ে ২০২৬ সাল এলেও শুরু হয়নি নির্মাণের কাজ। বর্তমানে আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে প্রস্তাবিত হিমঘরের জায়গা।
এলাকার বাসিন্দা সমরজিৎ সরকারের অভিযোগ, হিমঘর তৈরির জন্য শুধু সাইনবোর্ড লাগিয়েই দায় সেরেছে প্রশাসন। বাস্তবে এখনও কোনও কাজ নজরে পড়েনি। তিনি বলেন, সবজি বিক্রি না হলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। হিমঘর তৈরি হলে কৃষকরা উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির সুযোগ পেতেন। মাছমারা এলাকার মানুষের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
মাছমারার বাসিন্দা সন্তোষ সরকার বলেন, বহু আশা নিয়ে হিমঘর প্রকল্প ঘোষণা করা হলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। হিমঘর হলে আলু, লঙ্কা, টমাটো সহ নানা কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুবিধা পেতেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমত, তেমনই কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিও কমত।
সরকারি উদ্যোগে ঢাকঢোল পিটিয়ে শিলান্যাস হলেও বাস্তবে আজও শুরু হয়নি মাছমারার হিমঘর নির্মাণের কাজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প এখন মহাকরণে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। আর তার মাশুল গুনতে হচ্ছে কৃষিজীবীদের।